হাটহাজারীর ফরহাদাবাদ ও গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন

ত্রিপুরা পলস্নীর উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছেন দুই চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাটহাজারী উপজেলার ড়্গুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (ত্রিপুরা পলস্নী) জীবনমান উন্নয়নে ১০ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা টাকা বরাদ্দ চেয়েছেন দুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০১৮-১৯ বছরের জন্য দুটি প্রকল্প প্রসত্মাব করেছেন তারা। উপজেলার ফরহাদাবাদ ও গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নে
প্রকল্প দুটি বাসত্মবায়ন করা হবে। এর মধ্যে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের জন্য ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের জন্য ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। দুটি প্রকল্পের আওতায় দুই ইউনিয়নে স্বাস’্যসেবা ও ২০ শয্যার মেডিক্যাল, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কাম ধর্মীয় শিড়্গা কেন্দ্র, গভীর নলকূপ, গভীর তারা পাম্প ও রিং ওয়েল, স্যানিটারি ল্যাট্রিন, রাসত্মা ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ, তাঁত, গবাদি পশু, মৎস্য, কৃষি, কুটির শিল্প ও শিড়্গা ও সংস্কৃতি খাতে ব্যয় করা হবে। দুটি প্রকল্পে দুই ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কাম ধর্মীয় শিড়্গা কেন্দ্র নির্মাণে ২ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০ শয্যার মেডিক্যাল নির্মাণে ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ব্যয় হবে ৫০ লাখ টাকা আর গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের ব্যয় হবে ৮০ লাখ টাকা।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সম্প্রতি শিশুরা হাম রোগে আক্রানত্ম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চট্টগ্রামের সীতাকু- ও হাটহাজারীর (ত্রীপুরা পলস্নীর) ড়্গুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বরাবর নির্দেশনা এসেছে। এর পরিপ্রেড়্গিতে হাটহাজারী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। গত ৩০ আগস্ট গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মুজিবুর রহমান এবং ২ সেপ্টেম্বর ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিস মিয়া তালুকদার হাটহাজার উপজেলার সাবেক ইউএনও আক্তার উননেছা শিউলীর কাছে প্রকল্প প্রসত্মাবনা জমা দেন। প্রকল্প প্রসত্মাবনাসমূহের পরবর্তী ব্যবস’া গ্রহণের জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেন আক্তার উননেছা শিউলী। পরবর্তীতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকল্প প্রসত্মাবনাসমূহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন।
গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগেও ত্রিপুরা পলস্নীতে হাম রোগে মানুষ মারা গেছে। এখানে কোন হাসপাতাল না থাকায় রোগ নির্ণয় করা যায়নি। হাসপাতাল ছাড়াও এখানে নেই কোন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, স্যানিটেশনসহ ভালো যোগাযোগ ব্যবস’া। ড়্গুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা কোন বরাদ্দ আসে না। তাই বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা আওতায় ত্রিপুরা পলস্নীর জন্য এই প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘দুই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান থেকে দুটি সাদামাটা প্রকল্প পাওয়া গেছে। আরো বৃহৎ আকারে প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইউএনও’কে নির্দেশনা দিয়েছি।’
গত ২৩ সেপ্টেম্ব থেকে হাটহাজারী উপজেলায় ইউএনও’র দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ রম্নহুল আমিন। তিনি বলেন, ‘হাটহাজারীর ত্রিপুরা পলস্নীতে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরম্ন হচ্ছে। এছাড়াও ত্রিপুরা পলস্নীর ৫২টি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ, ২৬টি টয়লেট, দুটি শ্যালো টিউবওয়েল ও একটি ডিপ টিউবওয়েল স’াপন করা হয়েছে।