তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ন্যায্য দাম পেতে ‘টিকফা’ বৈঠকে দাবি জানাবে বাংলাদেশ

সম্পাদকীয়

তৈরি পোশাকের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম ২ মাসে পোশাক খাতে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলারে। পোশাক খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে বিজিএমইএর কর্মকর্তারা সন্তোষজনক বললেও অভিযোগ ক্রেতারা পোশাকের দাম কম দিচ্ছেন। এই পরিসি’তির পরিবর্তন হওয়া উচিত।
ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া টিকফা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ওপর জোর দাবি জানাবে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ।
২০১৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দু দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানো ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট বা ‘টিকফা’ চুক্তি হয়। এরপর কয়েক দফা বৈঠক হলেও অগ্রগতি সামান্যই। এ প্রসঙ্গে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। বর্তমানে পোশাক শিল্পে কর্ম পরিবেশের উন্নতি হলেও যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি সুবিধা প্রদান সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের বিশ্বসেরা ১০টি সবুজ কারখানার মধ্যে ৭টি বাংলাদেশের। জিএসপি সুবিধা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে। বিদেশি ক্রেতারা পোশাকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করলে বাংলাদেশের পোশাক খাতে আরো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বিশেষ করে উন্নত ব্যবস’াপনা, শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টিকফা বৈঠকে বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশী পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও নৈতিক কেনাবেচার চর্চা, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্য বিষয়ক সহযোগিতা চুক্তি (টিএফএ) বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হবে। আলোচনায় বাংলাদেশি নার্স ও মিডওয়াইফরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করতে পারেন সেজন্য নিয়মকানুন সহজ ও শিথিল করার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ-পত্রিকান্তরে এতথ্য এসেছে।
তবে টিকফা বৈঠকের অতীতের দৃষ্টান্ত নিয়ে বলা যায় রাজনৈতিক চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ আগ্রহী। বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিসি’তি ও শ্রম অধিকার, শ্রম পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়ে উন্নতি হলেও জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে যুক্তরাষ্ট্রের গড়িমসি তাদের রাজনৈতিক কৌশল বলে অনুমিত হয়।
আমরা মনে করি, দুদেশের বাণিজ্যিক পারস্পরিক সুবিধার দিকটি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। তুলনামূলক অর্থনৈতিকভাবে কম শক্তিশালী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উদার দৃষ্টিভঙ্গি নেয়া যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিসি’তির ক্রম উন্নতি, জ্বালানি সুবিধা প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি দৃশ্যমান। তাই মার্কিন বিনিয়োগ স্বাভাবিকভাবে আশা করে বাংলাদেশ।