তেলের ডিপোতে আগুন ২০ বসতঘর পুড়ে ছাই, মহাসড়কে তীব্র যানজট

নিজস্ব প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড গ্ধ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড তেলের ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে ডিপোর পার্শ্ববর্তী ভাড়া ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়েছে এবং নিটল টাটা গাড়ির ওয়ার্কশপও আংশিক পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় রেল যোগাযোগ এক ঘণ্টা ও সড়ক যোগাযোগ ২ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এ সময় মহাসড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট।
জানা যায়, ফৌজদারহাটের আবদুলস্নাহ ঘাট এলাকায় এ তেলের ডিপোতে জাহাজভাঙা শিল্প থেকে পাওয়া পুরানো তেল মজুদ ও বিক্রি করা হত। গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টায় মোসত্মাকিমের মালিকানাধীন এ কালো তেলের ডিপো ও ভাড়া ঘরে আগুন লাগে। এ সময় বিকট শব্দে কালো তেলের ডিপোর ট্যাংকার বিস্ফোরিত হতে থাকলে আতঙ্কে আশ-পাশের লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। আগুনে পার্শ্ববর্তী ভাড়া ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মহাসড়কে অবসি’ত বিভিন্ন ধরনের দোকানের মালিকেরা আগুন থেকে রড়্গার জন্য নিজ নিজ মালপত্র বের করার জন্য ব্যসত্ম হয়ে পড়ে। তবে আগুনে নিটল টাটা মোটরস ও নিটল ওয়ার্কশপ আংশিক পুড়ে যায়।
এ ঘটনার পর পর কুমিরা, সীতাকু-, আগ্রাবাদ ও পতেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিটের ১২টি গাড়ি ঘটনাস’লে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় চট্টগ্রাম থেকে আরও ২ ইউনিটে ৬টি গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। অবশেষে আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সড়্গম হয়।
আগুনের কারণে পার্শ্ববর্তী রেললাইন ও মহাসড়ক
যোগাযোগ এক ঘণ্টা ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেইন আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকে। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়ে উভয়মুখী শত শত বাস, ট্রাক লরি আটকা পড়ে। এতে হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
আগুন লাগার কারণ বা ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ তাৎড়্গণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস, তেলের ডিপো কর্তৃপড়্গ ও নিটল টাটা শো রম্নম ওয়ার্কশপ কর্তৃপড়্গ।
এ ঘটনায় তাৎড়্গণিক এলাকা পরিদর্শন করেছেন স’ানীয় সাংসদ দিদারম্নল আলম, সীতাকু- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সাংসদ দিদারম্নল আলম বলেন, আমরা ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা নিয়ে স’ানীয় চেয়ারম্যানসহ তদনত্ম কমিটি করব এবং তদনত্ম কমিটি অতি দ্রম্নত ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ নির্ণয় করবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের ৪ ইউনিটের ১২টি, পরে আরও ২ ইউনিটের ৬ গাড়ি মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ, ড়্গয়ড়্গতির পরিমাণ তদনত্ম করা ছাড়া বলা যাবে না।
ড়্গতিগ্রসত্মরা যাবে কোথায়?
তেলের ডিপোর আগুনে পার্শ্ববর্তী ভাড়া ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় ২০টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এই শীতে তাদের থাকা-খাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঘটনাস’লের পাশে খালি বিলে আশ্রয় নেয়া আগুনে ড়্গতিগ্রসত্ম মানুষগুলোর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। পরিবারের ছেলেমেয়েদের নিয়ে তারা কোথায় থাকবে? কী খাবে?