তীব্র সমালোচনার মুখে ট্রাম্প ক্ষমা চাইতে বলছে আফ্রিকান ইউনিয়ন

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোকে ‘অত্যন্ত নোংরা জায়গা’ বলেছেন, এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর এ মন্তব্যের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমা চাইতে বলেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী ওই গোষ্ঠীটির ওয়াশিংটন ডিসি মিশন ট্রাম্পের এ মন্তব্যে ‘মর্মাহত, অপমানিত ও উদ্বিগ্ন’ হওয়ার কথা জানিয়েছে। খবর বিডিনিউজ।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল দপ্তরে অভিবাসন নিয়ে এক বৈঠক চলাকালে ট্রাম্প কথিত ওই মন্তব্যটি করেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়। কিন’ কথিত ওই ভাষা ব্যবহার করেননি বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকে উপসি’ত দুই রিপাবলিকান সিনেটরও ট্রাম্পের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কিন’ ওই বৈঠকে উপসি’ত ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ডিক ডারবিন জানিয়েছেন, বৈঠকে বেশ কয়েকবার আফ্রিকার দেশগুলোকে ‘নোংরা জায়গা’ বলে মন্তব্য করে ‘বর্ণবাদী’ ভাষা ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার এক টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, অভিবাসন আইন ‘কঠোর’ করা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে ওই গোপনীয় বৈঠকটি করছিলেন তিনি। কিন’ তিনি বলছেন বলে যেসব শব্দ উল্লেখ করা হচ্ছে ‘সেগুলো ব্যবহার করা হয়নি’। অপরদিকে আফ্রিকান ইউনিয়ন বলেছে, ‘এই মন্তব্য সুপ্রসিদ্ধ মার্কিন ভাবমূর্তি এবং বৈচিত্র্য ও মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাকে অসম্মান করেছে। ‘এই মন্তব্যে আমরা আহত, অপমানিত ও উদ্বিগ্ন হয়েছি। আফ্রিকা মহাদেশ ও এর অধিবাসীদের বিষয়ে বর্তমান (মার্কিন) প্রশাসনের ব্যাপক ভুল বুঝাবুঝি রয়েছে বলে গভীরভাবে বিশ্বাস করে আফ্রিকান ইউনিয়ন। ‘এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে জরুরিভিত্তিতে সংলাপ হওয়া দরকার।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বোতসওয়ানায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কৈফিয়ত চেয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন মন্তব্য করেছেন নিশ্চিত হলে তা ‘অতিশয় বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক’ হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে ‘বেদনাদায়ক, লজ্জাজনক ও বর্ণবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জেনেভার জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতর।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র রুপার্ট কলভিল বলেন, আপনি পুরো দেশ বা মহাদেশের সব মানুষকে নোংরা বলতে পারেন না। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে বর্ণবাদী ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বর্ণনা করা অসম্ভব।
শ্বেতাঙ্গ নয় এমন জনগোষ্ঠীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত না জানানোর ট্রাম্পের মানসিকতার সমালোচনা করেন জাতিসংঘের এ মানবাধিকার কর্মী।
জানা গেছে, আইনপ্রণেতারা কয়েকটি দেশের নাগরিকদের বিশেষ সুরক্ষা ভিসা বহাল রাখতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন। ওই অনুরোধের জবাবেই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন ট্রাম্প।দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালার্ড পিপল অভিযোগ করেছে, ট্রাম্প বর্ণবাদ ও বিদেশি আতঙ্কের গভীর থেকে গভীরে নিমজ্জিত হচ্ছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের একমাত্র হাইতিয়ান-আমেরিকান সদস্য, রিপাবলিকান নেতা মিয়া লাভ ট্রাম্পের মন্তব্যকে নির্দয় ও বিভেদজনক হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সেড্রিক রিচমন্ড বলেছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে, তিনি আমেরিকাকে মহান নয়; বরং আবারও শ্বেতাঙ্গ করতে চান।