তিন বছরে পোল্ট্রিতে উৎপাদন দ্বিগুণ চান অর্থমন্ত্রী

সুপ্রভাত ডেস্ক

তিন বছরের মধ্যে দেশের পোল্ট্রি শিল্পে মাংস ও ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
মঙ্গলবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাজেটপূর্ব এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান। জবাবে ব্যবসায়ীরাও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সভায় বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি দাবি তোলা হয়।
এগুলো হলো- পোল্ট্রি খাদ্যের উপকরণ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার, সয়াবিন মিল আমদানির উপর থেকে ১০ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক মওকুফ, ভেজিটেবল প্রোটিন হিসেবে ব্যবহৃত ডিডিজিএস এসআরও তে অন্তর্ভুক্তিকরণ, আমদানিকৃত পণ্যের এইচএস কোডজনিত জটিলতা নিরসন এবং কাঁচামাল আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের ওপর থেকে সব ধরনের পরোক্ষ কর প্রত্যাহার এবং আয়কর কমানো। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
বিপিআইসিসির পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এর কেন্দ্রীয় নেতা শামসুল আরেফিন খালেদ অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে পোল্ট্রি খাতের কর অব্যাহতি সুবিধা তুলে নেওয়া হয়। ফলে ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর’ এ শিল্পে হঠাৎ করেই বড় ধরনের ধাক্কা লাগে, বেড়ে যায় উৎপাদন খরচ।
“আপনি লক্ষ করেছেন- মাত্র কিছুকাল আগেও মুরগির বাচ্চা, ডিম, মাংস, ফিড প্রভৃতি মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে আমদানি করতে হত। এগুলো এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। কিন’ পোল্ট্রি ফিডে ব্যবহৃত অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল যেমন- ভুট্টা, সয়াবিন মিল, ভেজিটেবল প্রোটিন প্রভৃতির সিংহভাগ এখনও আমদানি নির্ভর।
“পোল্ট্রি ফিডের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে সামগ্রিকভাবে ডিম, একদিনের মুরগির বাচ্চা ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে উৎপাদন খরচ বাড়লে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ডিম ও মুরগির মাংস কেনার পরিমাণ কমে যাওয়ার এবং ফলে সরকারের পুষ্টি নিরাপত্তা ও ভিশন-২০২১ লক্ষ্যমাত্রা, এমনকি এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বিঘ্ন কিংবা বিলম্ব ঘটার শঙ্কা বাড়বে- যা কখনই কাম্য নয়।”
পরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্রিডার্সরা অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন উপকরণের উপর বিভিন্ন রকমের ট্যাক্স রয়েছে। তালিকাটা তিনি এখনো পাননি। এনবিআরের লোকজন পেয়েছে, তারাই ফিক্সেশন করবে।
“আমি এই অঙ্গীকার করতে পারি, যে সব ম্যাটারিয়ালসের যেগুলোর অন্য ব্যবহার আছে, সেখানে একটু অসুবিধা নাই। যেখানে অন্য ব্যবহার নাই, সেটা জিরো হবে।
“পোল্ট্রি শিল্পের দিশারিরা এখানে আছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি, আমি গত ৮ বছর এই শিল্পকে লালনপালন করেছি। যখন মড়ক হল, তখন আমি এগুলো ধ্বংস করেছি। পরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি। এই সময়ে মোটামুটিভাবে তারা যা চেয়েছেন, তা পেয়েছেন।”
এ সময় অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান, এই শিল্প দ্বিগুণ করতে কত সময় লাগবে।
জবাবে বিপিআইসিসির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে এই শিল্পকে দ্বিগুণ করা সম্ভব।
এরপর অর্থমন্ত্রী বলেন, “আপনি বলেছেন, পোল্ট্রিতে দ্বিগুণ ২০২১ সালে হবে। এটা ভালো। কিন’ আরও কম সময়ে চাই। তিন বছরে এটা করতে হবে।