‘তিনি অবহেলিত মানুষের মুখশ্রী এঁকেছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘প্রদোষে প্রাকৃতজন খ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী বরাবরই সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের কথা তুলে এনেছেন তাঁর রচনায়। ভাবনায় ও তা প্রকাশের ভাষায় যতখানি মৌলিক হলে শওকত আলীকে একেবারেই আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়, তিনি ততখানিই স্বতন্ত্র।’
গতকাল চেরাগি মোড়ের সুপ্রভাত স্টুডিও হলে চিন্তাচর্চা আয়োজিত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন প্রফেসর গোলাম মুস্তাফা, নাট্যজন সঞ্জীব বড়-য়া, কবি হাফিজ রশিদ খান ও গল্পকার সৈকত দে।
প্রফেসর গোলাম মুস্তাফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি শির উঁচু এক প্রাজ্ঞজন, যিনি অবহেলিত মানুষের মুখশ্রী এঁকেছেন এবং একই সঙ্গে স্বার্থচিন্তা ও কুট ঘৃণাযুক্ত রাজনীতির বিভৎসতা থেকে মুক্তি প্রত্যাশা করেছেন।
নাট্যজন সঞ্জীব বড়-য়া বলেন, মাপের একজন লেখক হয়েও তিনি ছিলেন নিভৃতচারী। শওকত আলী যতদিন বেঁচে ছিলেন, ততদিন তিনি গণমানুষের কথা বলে গেছেন। সমকালের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন।
কবি হাফিজ রশিদ খান বলেন, শওকত আলী বাংলা কথাসাহিত্যের এক বিসুভিয়াস। দিন যত যাবে তাঁর কথাসাহিত্যের সমাদর বাড়বে।
সভাপতির বক্তব্যে গবেষক ও প্রাবন্ধিক ড. মাহবুবুল হক বলেন, তিনি ইতিহাস ও উপন্যাসের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করেছেন। সমাজবাস্তবতার চিত্রণে তিনি সর্বদা ছিলেন সচেষ্ট। তিনি নাগরিক জীবন নিয়েও উপন্যাস রচনা করেছেন। যেখানে শওকত আলীর মুনশিয়ানার পরিচয় মেলেছে।
চিন্তাচর্চার আহবায়ক সুভাষ দে এখানে যাঁরা সাহিত্যচর্চা কিংবা শিক্ষকতা করেন তাদেরকে অনুরোধ জানান শওকত আলীর সাহিত্য নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে আলোচনা করতে। তবেই তাঁর সাহিত্য বিস্তার লাভ করবে।
চিন্তাচর্চার সদস্য সচিব মুহাম্মদ শামসুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি একটি ভাষা তৈরি করেছিলেন। যা সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত হয়েছে।
শুরুতে স্মরণসভায় প্রবন্ধ পাঠ করেন গল্পকার সৈকত দে। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সহযোগী সম্পাদক সুভাষ দে।