জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ সন্ধ্যায়

তফসিল ঘোষণা আজ

বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা : ইসি

সুপ্রভাত ডেস্ক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি জানাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।
সন্ধ্যা ৭টায় তার ওই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে একযোগে সমপ্রচার করা হবে বলে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।
বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করবেন। তার আগে বেলা ১১টায় কমিশন সভা বসবে।’
বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিটিভির মহাপরিচালক এম হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করার প্রস’তি নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। সন্ধ্যা ৭টায় ভাষণ সমপ্রচারের প্রস’তি আমাদের রয়েছে।’
গতকাল সকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমরা এর আগেও সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি, কাল (বৃহস্পতিবার) তফসিল ঘোষণা করা হবে ।’
এরশাদের জাতীয় জোট, এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণায় পক্ষে বলে এলেও বিএনপিকে নিয়ে গঠিত কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট সমঝোতার আগে তফসিল ঘোষণা না করার দাবি জানিয়ে আসছে।
বৃহস্পতিবার তফসিল ঘোষণা করা হলে কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচিও দিয়ে রেখেছেন ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সংবিধান অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে গত মঙ্গলবার সিইসি বলেছিলেন, এর বাইরে তারা যেতে পারব না।
তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দল চাইলে কমিশন হয়ত সংবিধান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থেকে ভোটের সময়সূচি কয়েকদিন পেছানোর কথা ভাবতে পারে, কিন’ নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশন বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে ভোটের সম্ভাব্য তারিখ ধরে তাদের প্রস’তি এগিয়ে নিচ্ছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেও মঙ্গলবার ওই সময়ের কথাই বলেন।
তার যুক্তি, দুই দফা বিশ্ব ইজতেমার কারণে ১৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন করা সম্ভব না। ইজতেমার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পুরো জানুয়ারি মাসই ব্যস্ত থাকতে হয়।
এর আগে জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে স্কুল খোলা থাকে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য কমিশনকে স্কুল শিক্ষকদের ওপেই অনেকখানি নির্ভর করতে হয়। ফলে তখন ভোট করতে গেছে স্কুলের পাঠ্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে।
আবার জানুয়ারিতে শীত ও কুয়াশা বেশি থাকে এবং চরাঞ্চলে নদীপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন সিইসি।
সাধারণত তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট পর্যন্ত ৪০-৪৫ দিন সময় লাগে। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনে ৪২ দিন সময় রেখে ভোটের তফসিল হয়েছিল।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিলে ৪৫ দিন সময়কে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ মেনে ভোটের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে গত ৪ নভেম্বর ইংগিত দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।
তার ওই ইংগিত ঠিক থাকলে ভোট হতে পারে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে।তবে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ তফসিলের সঙ্গেই ঘোষণা করা হবে।
বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস’া: ইসি
নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের অবসান না ঘটায় তফসিলকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের গোলযোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে মতভেদ ঘোচাতে বুধবার দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসলেও সমাধানে পৌঁছতে পারেনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই অবস’ায় বুধবার আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিসি’তি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন।
আওয়ামী লীগ ইসিকে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোনোর সাহস দিলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের তাদের দাবি পূরণ হওয়ার আগে তফসিল ঘোষণা করলে আন্দোলনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা এখনও অবহিত নই (কর্মসূচির বিষয়ে)। যখন জানব, তখন আলোচনা করব।
‘তফসিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ইসির অধীনে থাকবে। তখন এ ধরনের কোনো পরিসি’তি হলে (তা মোকাবেলায়) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’ এদিকে তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে র্যাব বুধবার থেকেই সারাদেশে তাদের টহল জোরদার করেছে বলে বাহিনীর মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন।
২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি ভোট ঠেকানোর হুমকি দিয়েছিল। তখন সহিংসতায় প্রাণহানির পাশাপাশি অনেক ভোটকেন্দ্র পোড়ানো হয়েছিল।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে আমাদের শতভাগ প্রস’তি রয়েছে। সব দল অংশ নেবে আশা ইসির এবং সব দলের জন্য ক্ষেত্র প্রস’ত রয়েছে।’
ইসি সচিব জানান, বৈঠকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইসিকে ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে বলেছে।
তিনি বলেন, ‘ইসি যেন সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করতে পারে, সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা আচরণ বিধিমালা মেনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।’
বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের যেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া না হয়, সেই আহ্বান আওয়ামী লীগ রেখেছে বলে জানান হেলালুদ্দীন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার তর্কাতর্কিকে কেন্দ্র করে অনিবন্ধিত দলের সঙ্গে সংলাপ না করার পরামর্শও দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। হেলালুদ্দীন বলেন, ‘অনিবন্ধিত দলের সঙ্গে সংলাপ না করার পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিষয়টি আপনাদের অবহিত করলাম। উনারা (আওয়ামী লীগ) পরামর্শ দিয়েছে। তবে কার সঙ্গে সংলাপ করবে না করবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশনই।’