প্রাক-প্রাথমিক ও স্লিপের অর্থ লুটপাট

তদন্তে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলীকদম

আলীকদমে প্রাক-প্রাথমিক ও স্লিপের অর্থ লুটপাট বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রমাণ পেয়েও নির্ধারিত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করেননি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নুরী। বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গত ১৭ অক্টোবর আলীকদম উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনার তদন্ত করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করে একটি পত্র পাঠান। কিন্তু ১৯ কর্মদিবস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে গত ১৩ অক্টোবর ‘মেরামতের টাকা লুটপাট : আলীকদমে বিদ্যালয়গুলোতে দুর্নীতি’ শিরোনামে এবং গত ১৮ অক্টোবর ‘আলীকদমে স্কুলের টাকা লুটপাটে তদন্ত কমিটি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আলীকদম উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েল ক্ষুদ্র মেরামত, প্রাক-প্রাথমিক ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যানের (স্লিপ) বরাদ্দের টাকা লুটপাটের বিষয়ে সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকরা এ দুই অর্থবছরের অর্থ আত্মসাত করেন। এসব বরাদ্দের অর্থে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, ছোট-ছোট সংস্কার এবং গরিব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা উপকরণ কেনার কথা ছিল। এ নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় কথা ওঠায় সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টরকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
চৈক্ষ্যং ত্রিপুরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ঈশিতা ত্রিপুরা লিখিত বক্তব্যে তদন্ত কর্মকর্তা ও সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীরকে জানান, গত দুই অর্থবছরে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপকরণ ক্রয়খাতে ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। এ টাকায় প্লাস্টিক ঘোড়া, গামলা, বর্ণকাড ও একটি র‌্যাক তাকে বুঝিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক। অবশিষ্ট উপকরণ ক্রয়ের ব্যাপারে পরপর দুজন প্রধান শিক্ষককে বলা হলেও তারা মালামাল কিনে দেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, ইতোপূর্বে দুজন প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম ও হুমায়রা বেগম এ বিদ্যালয় থেকে বদলি হন। তারা বদলিকালে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের স্লিপের মালামাল, ভাউচার ও ব্যাংক হিসাবের কাগজপত্র বুঝিয়ে দিয়ে যাননি।
এসব অনিয়মের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে দফাওয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রিটন কুমার বড়ুয়া গত ১৭ অক্টোবরল নির্দেশ দেন। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নূরী নিজে তদন্ত না করে সহকারি ইন্সট্রাক্টরকে নির্দেশ দিয়েই যেন দায়সারা। এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সাংবাদিকরা একাধিকবার তাকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন না।
এদিকে প্রাক-প্রাথমিক ও স্লিপের মালামাল না কেনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের রক্ষায় একটি পক্ষ সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে অভিযুক্ত দুই প্রধান শিক্ষক এনামুল করিম ও হুমায়রা বেগমের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, অভিযুক্ত বিদ্যালয়গুলো তদন্ত করেছি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের পূর্ণাঙ্গ মালামালা কেনা হয়নি। তাদের হিসাবের ভাউচারও পাওয়া যায়নি। কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দর নুরী সোমবার দুপুরে বলেন, সহকারী ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দেননি। তাই প্রতিবেদন অগ্রগামী করা যাচ্ছে না।