চট্টগ্রামে হাইটেক পার্কের প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শনে মোস্তাফা জব্বার

তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থান বাড়বে

নিজস্ব প্রতিবেদক

হাইটেক পার্ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস’ান বাড়বে পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে আইসিটি খাতে বাংলাদেশের আয় বাড়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সকাল ৯টায় সার্কিট হাউস থেকে মন্ত্রীকে নিয়ে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকা এফআইডিসি রোড সংলগ্ন করপোরেশনের নিজস্ব সম্পত্তি পরিদর্শনে যান। এ সময় মন্ত্রীকে হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রস্তাবিত জমি দেখান মেয়র। জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি জরুরি ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে হাইটেক পার্ক-১২ এর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এমজি মোস্তাফাকে কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। একটি পুকুর অক্ষুণ্ন রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে ১১ দশমিক ৫ একর জায়গা সার্ভে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানো ও মাটি ভরাটের কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্টদের দিক নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। তিনি দেশের ১২টি হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ একই সাথে শুরু করার কথাও জানান।
চট্টগ্রামে হাইটেক পার্ক নির্মাণে এগিয়ে আসায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন মন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এই পার্ক নির্মাণের ফলে চট্টগ্রামবাসী উপকৃত হবেন। এই অঞ্চলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। নতুন কর্মসংস’ান সৃষ্টি হবে। রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে এ হাইটেক পার্ক গুরুত্বপূূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মেয়র।
এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় হাটহাজারী উপজেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ক্যাম্পাসে হাইটেক পার্কের জন্য প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী মোস্তাফা জাব্বার। এসময় প্রস্তাবিত হাইটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। পরে মন্ত্রী চবি বঙ্গবন্ধু চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ, হাইটেক পার্কের ফোকাল পার্সন আইসিটি সেলের পরিচালক কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. হানিফ সিদ্দিকী প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন।
হাটহাজারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্রাট খীসা বলেন, ‘চবির ভেতরে একটি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করবে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। আইসিটি মন্ত্রী প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জমির ম্যাপ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।’
এছাড়াও দুপুর ১টায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর এলাকায় হাইটেক পার্কের জন্য প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন করেছেন মন্ত্রী।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রাই বলেন, ‘সিলিমপুরে বিটিসিএলের মালিকানাধীন একটি জায়গা (মাঠ) পরিদর্শন করে হাইটেক পার্ক নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইসিটি মন্ত্রী ’
উল্লেখ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ও বিস্তার ঘটানো, নতুন কর্মসংস’ানের সুযোগ সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন দেশের বিভিন্ন স’ানে হাইটেক পার্ক, আইটি পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স’াপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ।