ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৭

রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী

এবার ছিল ঢাকা লিটারেচার ফেস্টিভালের সপ্তম বছর। বিগত ছয় বছরের মত এবারও দেশবিদেশের অগুনতি গুণী কবি-লেখক-চিন্তক-সাংবাদিক-বিজ্ঞানী-শিল্পী-প্রকাশকেরা অংশ নিয়েছিলেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই উৎসবে। ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর – তিন দিন ধরে বাংলা একাডেমির প্রাঙ্গণে সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলেছে বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রিক আলাপ-আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক, তুমুল আড্ডা, ভাব বিনিময় এবং সেই সাথে খাওয়া-দাওয়া। গণ্যমান্য বিদেশি অতিথিদের মধ্যে সবার মধ্যমণি হয়ে ছিলেন আধুনিক কালের আরবি কবিতার প্রধানতম পুরুষ ভুবনখ্যাত আডোনিস। একাধারে কবি, কাব্যতাত্ত্বিক ও চিন্তক বর্ষীয়ান আডোনিসের হাতে এবারের আয়োজনের পর্দা উন্মোচিত হওয়ার পর পরই বিশ্ববরেণ্য এই কবির সঙ্গে আলাপচারিতায় বসেন প্রখ্যাত কবি ও অনুবাদক সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কায়সার হক। আদোনিস আরবিতে কবিতা লিখলেও ফরাসী ভাষাতেই কথা বলেন এবং আলাপচারিতায় একজন দোভাষীর কল্যাণে শ্রোতাদর্শকেরা কবিতা, বিশ্বরাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে কবির চিন্তাভাবনা সম্পর্কে কিছুটা অবহিত হন। দ্বিতীয়দিন তিনি আরবিতে কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। একটা কথা না বললেই নয়। স্বাধীনতার ছিচল্লিশ বছর পরে এসেও আরবিতে ওই পর্যায়ে একজন মনীষীর সঙ্গে কথোপকথন করবার মত একজন ব্যক্তিকেও আমরা গোটা দেশজুড়ে খুঁজে পেলাম না এই ব্যাপারটা মনে প্রশ্ন জাগায়।
আডোনিস ছাড়াও চিন্তা উদ্‌্েরক করা কথাবার্তা আর মনমাতানো গল্প বলে দর্শকশ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন নাইজেরিয়ার কথাসাহিত্যিক বেন ওক্‌রি, ব্রিটিশ নাট্যকার স্যার ডেভিড হেয়ার, অস্কারজয়ী অভিনেত্রী টিল্‌ডা সুইন্টন, স্কটিশ লেখক উইলিয়াম ডালরিম্পল, ভারতীয় অভিনেত্রী ও লেখিকা নন্দনা সেন ইত্যাদি। আর বাংলাদেশের বরেণ্য বেশ কয়েকজন কবি ও কথাসাহিত্যিকেরা তো ছিলেনই। তবে দেশের অনেক পাঠক ও দর্শক যারা কেন্দ্র মানে রাজধানী ঢাকার বাইরে থাকেন। তাদের বঞ্চনার দিকটা আয়োজকেরা একটু ভেবে দেখতে পারেন। সবকিছুই তো ঢাকাকেন্দ্রিক।