ঢাকা ডায়নামাইটসের হ্যাটট্রিক জয়

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

শুরুর পর খুলনা টাইটানসকে লড়ার মত রান এনে দিল কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের ঝড়। সেই রান তাড়ায় ঢাকা ডায়নামাইটসের শুরুটা হলো আরও বাজে। কিন্তু খুনে এক ইনিংসে ম্যাচের মোড় পাল্টে দিলেন কাইরন পোলার্ড। শেষের উত্তেজনায় আলো ছড়াল জহুরুল ইসলামের ব্যাট। রোমাঞ্চকর জয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস করল জয়ের হ্যাটট্রিক। খবর বিডিনিউজ’র। বিপিএলে অনেকবার ম্যাচের লাগাম হাত বদল হওয়ার এই ম্যাচে খুলনা টাইটানসকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ব্র্যাথওয়েটের ঝড়ো ইনিংস খুলনাকে এনে দিয়েছিল ১৫৬ রানের পুঁজি। ঢাকা শুরুতে ধুঁকলেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন পোলার্ড। পরে জহুরুলের অপরাজিত ইনিংসে জেতে তারা ১ বল বাকি থাকতে।
শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ৬ রান। খুলনার ব্যাটিংয়ের নায়ক ব্র্যাথওয়েট বোলিংয়েও শেষ সময়ে দলকে জাগান আশা। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের করা মাচের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি জহুরুল। পরের দুই বলে আসে দুটি সিঙ্গেল।
হঠাৎই তখন কঠিন ঢাকার সমীকরণ। ২ বলে দরকার ছিল ৪ রান। পঞ্চম বলে দারুণ এক রিভার্স স্কুপে চার মেরে দলকে আনন্দে ভাসান জহুরুল।
ঢাকা রান তাড়ার শুরু করে চার ম্যাচে চতুর্থ উদ্বোধনী জুটি দিয়ে। এভিন লুইসের সঙ্গে আগের তিন ম্যাচে ওপেন করেছিলেন মেহেদী মারুফ, কুমার সাঙ্গাকারা ও শহিদ আফ্রিদি। এবার লুইসের সঙ্গী সুনিল নারাইন।
তবে সেই ফাটকা কাজে লাগেনি। তিন নেমে ঝড় তুলতে পারেননি শহিদ আফ্রিদিও। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্যামেরন ডেলপোর্টের বেলস ওড়ান জোফ্রা আর্চার।
আকিলা দনঞ্জয়ার পথম বলেই ফেরেন নারাইন। মিড অন থেকে অনেকটা দৌঁড়ে সামনে ঝাঁপিয়ে সীমানার কাছে অসাধারণ ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ। খুলনা অধিনায়ক পরে বল হাতে নিয়ে ফেরান প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সাকিবকে (১৭ বলে ২০)। ১০ ওভার শেষে ঢাকার রান ছিল ৫ উইকেটে ৪৮। কে ভাবতে পেরেছিল, একাদশ ওভার থেকেই শুরু হবে এমন টর্নেডো!
মাহমুদউল্লাহর এক ওভারেই চারটি বিশাল ছক্কা মারেন পোলার্ড। ব্র্যাথওয়েটের এক ওভারে দুটি চার, দুটি ছয়। টাইমিং আর পেশিশক্তির মিশেলে সবগুলোই বিশাল ছয়। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে জুটির পঞ্চাশ আসে মাত্র ২৫ বলেই, তাতে পোলার্ডের রানই ছিল ৪৬!
ফিফটি করেন ১৯ বলে, বিপিএলে যা তৃতীয় দ্রুতততম পঞ্চাশ। শেষ পর্যন্ত এই তাণ্ডব থামান শফিউল। তার একটি বাউন্সার পোলার্ডের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে। পরের বলটিও ছিল শর্ট বল, তবে এটি স্লোয়ার শর্ট। ৬ ছক্কায় ২৪ বলে ৫৫ করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পোলার্ড। জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ছিল তখন ৩২ বলে ৪৩ রান। জহুরুল ও মোসাদ্দেক দলকে এগিয়ে নেন ঠাণ্ডা মাথায়। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। শেষের আগের ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মারেন জহুরুল, শেষ বলে মোসাদ্দেক। ওভার থেকে আসে ১৩ রান। এরপর শেষ ওভারের নাটকীয়তায় নায়ক জহুরুল। অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ৪৫ রানে। ঢাকার আগে ব্যাটিংয়ে খুলনার শুরুটাও ছিল বাজে।