ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজটে চরম ভোগানিত্ম

সুপ্রভাত ডেস্ক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ অংশের প্রায় ২৫ কিলোমিটারে দিনভর যানজটে ভোগানিত্ম পোহাতে হয়েছে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের। বুধবার ভোর থেকে মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের মেঘনা টোল পস্নাজা থেকে সাইনবোর্ড পর্যনত্ম প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট বিসত্মৃত হয়। যানবাহন সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগানিত্ম পোহাতে হয় বিভিন্ন গনত্মব্যের যাত্রীদের।
পুলিশের ভাষ্য, মঙ্গলবার রাতে মেঘনা টোল পস্নাজায় বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। সেই গাড়িগুলো সরাতে সরাতে অন্য গাড়ির চালকরা ঘুমিয়ে পড়লে যানজট বিসত্মৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের গাড়ির স্রোতের কারণে সেই যানজট ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কের বিভিন্ন
এলাকায়।বুধবার বিকাল ৫টার পর থেকে পরিসি’তি উন্নতি হতে থাকে। এর আগে গত সপ্তাহে মহাসড়কে ফেনীর ফতেহপুরে রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ কাজ চলার কারণে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিলস্নার ৫০ কিলোমিটার অংশে তীব্র যানজট হয়। সে সময় ঢাকা-চট্টগ্রামের ৬/৭ ঘণ্টার দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে ১৭/১৮ ঘণ্টা।
পরে পুলিশের হসত্মড়্গেপে ওই যানজট নিরসণ হলে তা স’ানানত্মরিত হয় মহাসড়কের কুমিলস্না ও নারায়ণগঞ্জ অংশে। গত দুই-তিনদিন থেকে এই অংশে শুরম্ন হয় তীব্র যানজট। চারলেন সড়কের যানবাহনের স্রোত দুই লেনের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতুতে এসে পড়াও যানজটের আরেকটি কারণ। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, মেঘনা টোল পস্নাজা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যনত্ম সকাল থেকে বিকাল পর্যনত্ম মহাসড়কের দুটি লেনেরই যানজট বিসত্মৃত হয়। গুরম্নত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যানজট ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডসহ আশপাশের সড়কগুলোতে।এরমধ্যে রয়েছে মেঘনা টোল পস্নাজা, মোগড়াপাড়া, মদনপুর, কাঁচপুর, সাইনবোর্ড এলাকা।এছাড়া যানজটের কারণে উল্টে পথে যানবাহন চলাচল ও এলোপাথাড়িভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। সাইনবোর্ড, শিমরাইল, কাঁচপুর ও মোগড়াপাড়া পয়েন্টে বাস কাউন্টারগুলোতে বিভিন্ন গনত্মব্যের যাত্রীদেরকে গাড়ির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেড়্গা করতে দেখা গেছে। স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে চলতে দেখা গেছে। বিকাল ৩টার দিকে সাইনবোর্ড এলাকায় বাসের জন্য অপেড়্গমান কুমিলস্নাগামী যাত্রী দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি কুমিলস্না যেতে বাসের জন্য আড়াইঘণ্টা ধরে অপেড়্গা করছেন; কোনো বাস আসেনি। গত কয়েকদিন ধরে মহাসড়কের যানজট পরিসি’তিতে অসনেত্মাষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের গুরম্নত্বপূর্ণ একটি মহাসড়ক যানজটে অচল হয়ে রয়েছে। কিন’ সংশিস্নষ্ট কর্তৃপড়্গ কোনো পদড়্গেপ নিচ্ছে না। কৃষ্ণা সাহা নামের এক যাত্রী বলেন, যানজটে মহাসড়ক স’বির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলেও বিকালে তা নিরসন হচ্ছে না। যাত্রী আমেনা বেগম জানান, তিনি রাজধানীর মগবাজার থেকে রওনা হয়ে আড়াইঘণ্টায় সাইনবোর্ড এসেছেন। ‘যানজটে আমাদের ভোগানিত্মর শেষ নেই। আমরা কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসনে কোনো কাজ করছে না।’ অন্যদিক পরিবহন চালকদের ভাষ্য, কুমিলস্নার দাউদকান্দি থেকে যানজট শুরম্ন হয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে মহাসড়কের শনির আখড়া পর্যনত্ম। যানজটের কারণে যোগাযোগ ব্যবস’া ভেঙে পড়েছে। যানজটের কারণে তারা রেস্ট করতে পারছেন না। প্রশাসন কোনো ব্যবস’া না নেওয়ায় এই সংকট আরও প্রকট হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা তিন ঘণ্টার সড়ক পাড়ি দিতে হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টায়। যানজটে আটকা পড়ে আমরা কোনো বিশ্রাম নিতে পারছি না।’ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল করিম বলেন, রাতে দাউদকান্দি (মেঘনা-গোমতী) সেতুতে দুর্ঘটনা হলে রেকার দিয়ে সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি সরিয়ে নিতে সময় লাগে; যার কারণে ওই যানজটটা আসেত্ম আসেত্ম নারায়ণগঞ্জ পর্যনত্ম বিসত্মৃত হয়। তাছাড়া থেমে থেমে বৃষ্টি, মাঝে মহাসড়কে গাড়ি নষ্ট, বিভিন্ন স’ানে রাসত্মা মেরামতের কাজ হচ্ছে, কাঁচপুর, গোমতী, মেঘনা গোমতী সেতুর কাজ হচ্ছে। এসকল কিছু মিলিয়ে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে তার ভাষ্য। ‘যানজটের কারণে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকলেই মহাসড়কে রয়েছেন। যানজট আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। আমরা আশা করছি, আগামী দুই তিন ঘণ্টার মধ্যে পরিসি’তি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’ খবর বিডিনিউজ।