এনায়েত বাজার রানীর দীঘি

ড্রামে মিললো অজ্ঞাত লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনায়েত বাজার রানীর দীঘি থেকে তোলার পর এ ড্রামেই মিললো অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশ-সুপ্রভাত
এনায়েত বাজার রানীর দীঘি থেকে তোলার পর এ ড্রামেই মিললো অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশ-সুপ্রভাত

নগরের এনায়েত বাজার রানীর দীঘিতে প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে ১০০ রাউণ্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধারের পর এবার ড্রামে মিললো অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশ। গতকাল রোববার বিকাল ৪টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গতকাল বিকালে দীঘিতে গোসল সেরে পাড়ে ওঠার সময় এক ব্যক্তির পায়ে কিছু একটা আটকে যায়। অনেক চেষ্টা করেও ভারী ড্রামটি পানি থেকে তুলতে পারেনি স’ানীয়রা। খবর দেয়ার পর পুলিশ এসে অনেক চেষ্টা করে ড্রামটি তুলতে না পেরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে ড্রামটি পাড়ে তোলেন। সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেয়া ড্রাম থেকে প্রচুর দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। দীঘি থেকে ড্রামটি পাড়ে তুলে মেশিনের সাহায্যে মুখ কাটার পর পুলিশ দেখে, এটির ভেতর আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিকৃত লাশ। তবে লাশটি কার তা শনাক্ত করা যায়নি।
কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, ড্রামের ভেতরে পাওয়া লাশটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালী জোন) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দীঘির পাড়ে পানির মধ্যে একটি ড্রাম পড়ে আছে খবর পেয়ে ঘটনাস’লে যায় পুলিশ। ড্রামের ভেতর বোমা আছে কিনা পরীক্ষার জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাজির হন। সবার উপসি’তিতে রশি দিয়ে দীঘি থেকে ড্রামটি পাড়ে তোলা হয়। ড্রামটির একপাশে টিন এবং আরেক পাশে সিমেন্ট দিয়ে আটকানো। যেদিকে টিন রয়েছে ওই দিকে কাটা হয়। দেখা যায়, ড্রামের ভেতর উপুড় করে রাখা হয়েছে আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির লাশ। ড্রামের ভেতর লাশের সঙ্গে ইট ও সিমেন্টও রাখা হয়, যাতে ড্রামটি পানিতে না ভাসে।
পরে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় লাশের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ধারণা, ১০-১২ দিন আগে লাশটি ড্রামের ভেতর ঢোকানো হয়। এ ব্যাপারে স’ানীয় লোকজনও কিছু বলতে পারছেন না।
রানীর দীঘির চারপাড়ে চলাচলের রাস্তা রয়েছে। আশপাশে বসতি। কীভাবে ড্রামটি দিঘিতে এলো, তা বের করার চেষ্টা চলছে। এর আগে গত ৩ মে ওই দীঘিতে গোসল করতে নেমে এক কিশোর একটি প্যাকেটে মোড়ানো ১০০টি তাজা গুলির সন্ধান দেয় পুলিশকে। গুলিগুলো পয়েন্ট টুটু বোর পিস্তলের। দীঘির পূর্বপাড় থেকে এক ফুট দূরে পানির নিচে এসব গুলি ছিল। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা হয়।