চিকিৎসক আকাশের আত্মহত্যার মামলা

ডা. মাহাবুবুলকে খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যা মামলার এজাহারভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ আসামি ডাক্তার মাহাবুবুল আলমের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। পলাতক আছেন মামলার অন্যতম আসামি মিতুর বাবা আনিসুল হক চৌধুরীও। ডাক্তার মাহাবুবুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চান্দগাঁও থানার এসআই আবদুল কাদের।
এক প্রশ্নের উত্তরে এসআই আবদুল কাদের বলেন, ‘এজাহারে ডা. মাহাবুবুলের সুনির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা দেননি বাদি চিকিৎসক আকাশের মা জোবেদা খানম। ইতোমধ্যে তার (ডা. মাহাবুবুল আলম) একটি মোবাইল ফোন নম্বর পেলেও সেটি এখন আর ব্যবহৃত হচ্ছে না। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে মামলার তদন্ত

কাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
এসআই আবদুল কাদের জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে মিতুর মা, বোন ও কথিত বন্ধু ভারতীয় নাগরিক প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। আপাতত তাদের গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। তদন্ত কাজ এগিয়ে নিতে মিতুর কথিত প্রেমিক ডা. মাহাবুবুলের গ্রেফতার করা খুবই জরুরি। ডা. মাহাবুবুল আলমকে গ্রেফতার হলে তাকে মিতুর মুখোমুখি করা হবে।
এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে মিতুকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। তিন দিন তদন্ত কর্মকর্তার জেরায় ‘অনৈতিক সম্পর্কের’ কথা স্বীকার করেন মিতু। কারাগারে নেওয়ার আগে বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান মিতু। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিলেও থানা হেফাজতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬১ ধারায় রেকর্ড করে পুলিশ।
গত ৩১ জানুয়ারি ভোরে নগরের চান্দগাঁও আবাসিকের বি ব্লক এলাকার ২ নম্বর রোডের ২০ বাড়ির তৃতীয় তলার বাসায় মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন। এরআগে তার স্ত্রী মিতুর সঙ্গে ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসক দম্পতির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর ভোররাত চারটার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান মিতু। এরপর আত্মহত্যার ঘটনার আগে মিতুকে দায়ী করে ফেসবুকে দুটি পোস্ট দেন আকাশ। ৩১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নগরের নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মিতুকে আটক করে পুলিশ।
১ ফেব্রুয়ারি বিকালে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মিতু ও তার মা-বাবা, বোন এবং মিতুর দুই বন্ধুসহ ছয়জনকে আসামি করে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন আকাশের মা জোবেদা খানম। কুমিল্লা মেডিক্যালে পড়াশুনার সময় মিতুর ব্যাচমেট ছিলেন ডা. মাহবুবুল আলম।