ডায়াবেটিস রোগী ও পরিবারের উদ্বেগ

মো. আবদুর রহিম

ডায়বেটিস এমন একটি রোগ-যার কারণে দেহের গুরম্নত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মড়্গমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, অন্ধ হয়ে যাওয়াা, দাত নষ্ট হওয়া, পায়ে বা ড়্গতস’ানে পচন ধরা ইত্যাদি নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমি বিগত প্রায় ২০ বছর যাবত এ রোগে ধুকে ধুকে ভুগে ভুগে বেঁচে আছি। ১৪ নভেম্বর এলে ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে সচেতনতা একটু বেশি হয়।
প্রতিবছরই ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয় এবারও পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ’। প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখ ডায়বেটিস রোগী রয়েছে। শোনা যায় এবছর আরো ১ লাখ রোগী বেড়েছে।
এ ছাড়াও বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোাগ ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে। এ রোগের ভয়াবহতা চিহ্নিত করে বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ও বিশ্ব স্বাস’্য সংস’া ১৯৯১ সনের ১৪ নভেম্বরকে ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। কারণ এ দিন বিজ্ঞানি ফ্রেডরিক বেনিটিং জন্ম নিয়েছিলেন। তিনি বিজ্ঞানি চালর্স বেস্টের সঙ্গে একত্রে ইনস্যুলিন আবিস্কার করেছিলেন।
বিশ্বজুড়েই ডায়াবেটিস এক নীরব মহামারি। অন্যদেশের মতই বাংলাদেশে প্রতিদিনই ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। হরমন সংশিস্নষ্ট এই রোগটির প্রকোপ শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী গ্রামে বসবাসরত প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ এ রোগে আক্রানত্ম হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো বৈশ্বিক পরিবর্তনের ফলে এ রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মানবদেহের ইনস্যুলিনের ঘাটতিজনিত এই রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ আর সচেতনতা বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্বেষজ্ঞরা। প্রযুক্তির প্রসার ও নগরায়নের প্রভাবে মানুষের জীবন যাপন ও খাদ্যাভাসে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়ায় পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীর চর্চার স’ান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
অতিমাত্রায় ফাস্টফুড, কোমল পানীয়ের মতো ক্যালরি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের ফলে বাড়ছে স’ুলতার ঝুঁকি। সম্মিলিত প্রচেস্টায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করে সুস’ জাতি গঠনে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। গণ মাধ্যম সহ নানা তথ্যে জানা যায় বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রানত্ম রোগী প্রায় ৪০ কোটি।
বিশ্বের এ রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ ১০ম স’ানে রয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গৃহিত না হলে ২০৩০ সনের মধ্যে বিশ্বে ৫৫ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রানত্ম হতে পারে। সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সড়্গম। সুতরাং চোখে অসুখ, হৃদরোগজনিত সমস্যা, মানসিক রোগসহ নানান জটিল ও কঠিন রোগ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য, সুস’ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন স্বাস’্যকর খাদ্যাভাস, শরীর চর্চা বা ব্যায়াম এবং মন সুস’ রাখা। মন সুস’ রাখতে হলে মনের ওপর চাপ নেয়া যাবে না। শারীরিক ও মানসিক চাপ উভয়ই স্বাসে’্যর জন্য অপকারী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভিশন অনুযায়ী সুস’ জাতি গঠনে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।