ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

‘ডানা মেলি আকাশপানে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতীয় নৃত্যকলার প্রাচীন ও ধ্রুপদি ধারার নাম ‘ওড়িশী’। পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে এ নৃত্যশৈলী এখন বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বময়। ত্রিভঙ্গি আশ্রিত এ নৃত্যধারার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দেখা গেল গতকাল। ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টারের অষ্টাদশ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে ওড়িশী অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, চট্টগ্রাম বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রারম্ভিক প্রস’তি হিসেবে গতকাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করে সেন্টারের দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘ডানা মেলি আকাশপানে’। অনুষ্ঠানে ৫টি শিশু বিভাগ অংশগ্রহণ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার এবং চট্টগ্রামস’ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জীর সহধর্মিণী মিসেস রুনা ব্যানার্জী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু এবং শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার মোসলেম উদ্দিন শিকদার। সভাপতিত্ব করেন সেন্টারের সভাপতি প্রফেসর ড. অনুপম সেন।
সংগঠনের বিগত কার্যক্রম নিয়ে পরিচালক ওড়িশী নৃত্যশিল্পী প্রমা অবন্তী বলেন, দুহাজার সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই নৃত্য সংগঠনটি বাংলাদেশে ধ্রুপদি ওড়িশী নাচের পাশাপাশি রবীন্দ্র নৃত্যআঙ্গিক নিয়েও কাজ করে আসছে। আজ আঠার বছরে পদার্পণ করলো প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশে-বিদেশে উচ্চাঙ্গ নৃত্য পরিবেশন করে সুনাম অর্জন করে। বিগত ১৭ বছরে দেশে-বিদেশে এ প্রতিষ্ঠান আড়াইশরও বেশি একক ও দলীয় নৃত্য পরিবেশন করার গৌরব অর্জন করেছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশে ওড়িশী নৃত্যের প্রচার ও প্রসারের জন্য কলকাতার পৌষালী মুখার্জী একাডেমি এই প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে।
এরপর মিলনায়তনে আগমনী, হাসিখুশি, প্রজাপতি, সূর্যমুখী ও শাপলা শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘ডানা মেলি আকাশপানে’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। এতে শিশুরা নেচে-গেয়ে আনন্দচিত্তে মেতে ওঠে সৃষ্টির আনন্দে।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মিলনায়তনে রবীন্দ্র, নজরুল, লোক এবং আধুনিক আঙ্গিকে নৃত্য পরিবেশন করে সেন্টারের শিশু শিক্ষার্থীবৃন্দ।