ভোগান্তির শেষ নেই

ঠেগরপুনি সেতু ২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া
BIKASH-20.9.17-(2)

পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন-ছনহরা সংযোগ সড়কের সেতুটি দীর্ঘ ২০ বছরেও হয়নি। উপজেলার ছনহরা ও ভাটিখাইন ইউনিয়নের অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুদের প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বর্তমানে বাঁশের একটি সাঁকো দিয়ে এলাকার লোকজন যাতায়ত করছে। সাঁকোর উত্তরে ভাটিখাইনের ঠেগরপুনি ও দক্ষিণে ছনহরা ইউনিয়নের অনন্ত ৫টি গ্রাম রয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, ভেঙে যাওয়া সেতুটি সরকারিভাবে নির্মাণ করা। তবে ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পূর্বে সাঁকো ভেঙে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুটি নির্মাণের কথা ছিল। পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে তা উদ্বোধন করতে প্যান্ডেল, নামফলক বসানোর জন্য একটি স্তম্ভও নির্মাণ করা হয় বলে ভাটিখাইন ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলাম জানান। ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার প্রতিটি নারী-পুরুষকে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও সরেজিমন ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম ভাটিখাইন ও ছনহরা সীমান্তে শ্রীমতি খালের ওপর রয়েছে এ বাঁশের সাঁকোটি। ২০ বছর আগে এটি জমানো একটি ব্রিজ ছিল। অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যায়।
এরপর থেকে এলাকার লোকজন মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে চলাচলের জন্য সাঁকো নির্মাণ করে। উত্তর ছনহরা টিপি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিকন খলিফা ছিদ্দিক আহমদ দাখিল মাদ্রাসা, নলিনীকান্ত মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, ভাটিখাইন উচ্চ বিদ্যালয়, ভাটিখাইন এ হাকিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও রয়েছে ঠেগরপুনি বৌদ্ধমন্দির।
এখানে প্রতি সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন প্রার্থনা করতে আসেন। এদিকে বাঁশের সাঁকো সংলগ্ন ঠেগরপুনি সংযোগ সড়কের প্রায় দেড়শ ফুট রাস্তা কাঁচা থাকার কারণে সিএনজি, রিকশাসহ কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ছনহরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোরশেদ আলম জানিয়েছেন, তাদের এলাকার বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণের জন্য টেন্ডারও হয়েছিল। এমপি সাহেব এটি উদ্বোধনের জন্য প্যান্ডেল পর্যন্ত করা হয়। তবে কী কারণে ব্রিজটি আর হয়নি তা জানি না। ভাটিখাইন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঠেগরপুনি ব্রিজ ২০ বছরেও নির্মাণ না হওয়ায় এলাকার মানুষকে চরমভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঠেগরপুনি ব্রিজটির জন্য টেন্ডার হলেও পরবর্তীতে এটি বাতিল করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটিয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শফিক বলেন, ঠেগরপুনি ব্রিজ উদ্বোধনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সয়েলটেস্ট শেষে ব্রিজের ডিজাইন অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।