কক্সবাজার বিমানবন্দরের জেনেরেটর ক্রয়ে দুর্নীতি দুদকের মামলা

ঠিকাদারসহ পাঁচ কর্মকর্তা জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য জেনারেটর ক্রয়ে দুর্নীতির দায়ে দুদকের মামলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারসহ ৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।
গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজের আদালতে জামিনের জন্য আত্মসমর্পণ করলে আদালতের বিচারক শুনানি শেষে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। দুদকের কক্সবাজার পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিরা হলেন মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং প্রকল্পের ঠিকাদার শাহাব উদ্দীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমান বন্দরের সাবেক ব্যবস’াপক হাসান জহির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দে এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ। তবে মামলার আরেক আসামী কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মন্ডল আদালতে হাজির হননি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে কক্সবাজার বিমানবন্দরের জন্য একটি ৩০০ কেভি জেনারেটর ক্রয়ের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন’ বেসামারিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তা ও ঠিকাদার যোগসাজস করে জেনারেটরটি ক্রয় না করেই ক্রয় দেখিয়ে ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ৬ জানুয়ারি দুদকের চট্টগ্রাম অঞ্চল-২ এর উপ-পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদি হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিআর-২৬/১৯নং মামলা রুজু করেন।
মামলায় আসামি করা হয় প্রকল্পের ঠিকাদার মেসার্স ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শাহাব উদ্দীন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক সহকারী প্রকৌশলী ভবেশ চন্দ্র সরকার, কক্সবাজার বিমানবন্দরের সাবেক ব্যবস’াপক হাসান জহির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী মিহির চাঁদ দেব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুল আফরোজ, কক্সবাজার বিমান বন্দরের সাবেক সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম মন্ডল।
কক্সবাজার দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম জানান, দুদকের দায়ের করা মামলায় আসামীরা উচ্চ আদালতে আগাম জামিনের জন্য আবেদন করলে আদালত আসামীদের চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে অথাৎ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত কক্সবাজারে হাজির হতে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের বেঁধে দেয়া সময়সীমা শেষ হলে আসামিদের ৫ জন কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট নূরুল মোস্তফা মানিকের নেতৃত্বে ২০ জনেরও অধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন এবং দুদক পক্ষে শুনানি করেন দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম। তাকে সহযোগিতা করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
দুদকের পিপি মো. আবদুর রহিম বলেন, ‘মামলাটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে আসামিদের জামিনের বিরুদ্ধে লড়েছি। আদালত সব কিছু বিবেচনা করে জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ’