চীনে বুলেট

ট্রেন ১৪ শ কিলোমিটার পথ সাড়ে ৫ ঘণ্টায়

চীনে বুলেট ট্রেন ১৪ শ কিলোমিটার পথ সাড়ে ৫ ঘণ্টায়

ভূঁইয়া নজরুল, চীন ঘুরে এসে গ্ধ
বুলেট ট্রেন। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশের রেলমন্ত্রীদের কাছ থেকে দফায় দফায় শোনা যাচ্ছে এই ট্রেনের নাম। দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এই ট্রেন চালু নিয়ে রেলমন্ত্রীদের আগ্রহেরও শেষ নেই। ৩৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে বুলেট ট্রেনের মাধ্যমে মাত্র দুই ঘণ্টায় গন্তব্যস’লে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে রেলওয়ে। তবে বুলেট ট্রেন কি তা দেখা হয়ে গেল চীনে।
বেইজিং থেকে সাংহাইয়ের দূরত্ব ১৪০০ কিলোমিটার। আর এই পথ পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লেগেছে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। শুধু গতি নয়, গতির সাথে গন্তব্যস’লে পৌঁছার নির্ধারিত সময়ও ঠিক রেখেছে ট্রেনটি।
আমাদের দেশে বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত গতির ট্রেন হলো সোনারবাংলা ও সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এই ট্রেন দুটির সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। তাহলে আমরা ৫ ঘণ্টায় যাই ৩৪৬ কিলোমিটার, আর চীনের ট্রেন একই সময়ে যায় ১৪০০ কিলোমিটার। কিভাবে সম্ভব? আমরা কতগুণ পিছিয়ে আছি। আর এতো দ্রুত গতিতে ট্রেনটি চলাচল করলেও কোনো ধরনের ঝাঁকুনি বা শব্দ নেই।
গত সপ্তাহে চীনের বেইজিং থেকে সাংহাই আসতে দ্রুতগতির এই বুলেট ট্রেনে চড়া হয়েছিল।
বেইজিং থেকে সকালে ট্রেনটি ছাড়ার পর নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে থেমেছে এবং যাত্রী নামানো ও ওঠানো উভয় কাজই করেছে। তারপরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি সাংহাই স্টেশনে পৌঁছেছে। এখন প্রশ্ন জাগে ১৩১৮ কিলোমিটার পথ মাত্র ৫ ঘণ্টায় অতিক্রম করে তা কিভাবে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছালো? আর এই দীর্ঘ পথচলায় ট্রেনের গতি কখনো ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার আবার কখনো ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্তও উঠেছে। ট্রেনের গতি কতো চলছে তা দেখার জন্য চালকের সামনের স্পিড ডায়ামিটার দেখার প্রয়োজন নেই। ট্রেনের সব কোচের যাত্রীরা যাতে প্রতিমুহূর্তে ট্রেনের গতি ও পরবর্তী স্টেশনের নাম দেখতে পারে সেই ব্যবস’া রয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেনের গতি ডিসপ্লে দিচ্ছে। সেইসাথে সময়ও। ট্রেনটি ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারের অধিক গতিতে চলাচল করলেও কোনো ধরনের ঝাঁকুনি নেই। যাত্রীরা সবাই নির্ধারিত আসনে বসে আছে এবং যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্ন্যাকস ছাড়াও কেউ বাড়তি টাকা পরিশোধ করে খাবারও খেতে পারবে। এব্যবস’া আমাদের দেশের ট্রেনগুলোতেও রয়েছে।
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, আমাদের দেশের রেল লাইনের মতো তাদের দেশের রেললাইন উন্মুক্ত নয়। অর্থাৎ, রেললাইনের সীমানার মধ্যে কারো প্রবেশের সুযোগ নেই। পুরো রেললাইন এলাকাটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে বেষ্টনি করে দেয়া রয়েছে। রেললাইনের চলতি পথে রয়েছে পাহাড়ও। সেই পাহাড়ের নিচ দিয়ে টানেলের মতো চলে গেছে রেলপথ। আর যদি কোনো সড়ক যোগাযোগের রাস্তা পড়ে তাহলে সেই রাস্তাটি হয় ওভারপাস বা আন্ডারপাস আকারে পার হয়ে গেছে। রেললাইন সম্পূর্ণ ডিস্টার্ব ফ্রি অবস’ায় রয়েছে। শুধু মানুষ নয়, এই রেললাইনের মধ্যে কোনো ধরনের প্রাণীও থাকার সুযোগ নেই। আর আমাদের দেশে কিছুদূর পর পর লেভেল ক্রসিং, উন্মুক্ত রেললাইন এবং রেল লাইনের উপর মানুষ, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণী চলাচল করে।
শুধু কি রেললাইন, প্ল্যাট ফরমের মধ্যে নির্ধারিত ট্রেনের যাত্রী ছাড়া অন্য কোনো ট্রেনের যাত্রীদের প্রবেশের সুযোগ নেই। ট্রেন আসার কয়েক মিনিট আগে যাত্রীদের প্রবেশের সুযোগ দেয়া হয়। যাত্রীরা প্ল্যাটফরমে একটি নির্ধারিত স’ানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে। যাত্রীরা যে যে স’ানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে ঠিক সেই স’ানে ট্রেনের দরজা থাকবে। অর্থাৎ ট্রেনটি কোন স’ানে থামলে প্ল্যাটফরমে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা উঠতে পারবে তা আগে থেকেই নির্ধারিত করে রাখা হয়েছে।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে আমাদের রেললাইনে অনেক পাথর দেখা গেলেও তাদের রেললাইনে কোনো পাথর নেই। তাদের রেললাইন হচ্ছে চৌম্বকক্ষেত্রের সাহায্যে ভাসমান ট্রেন। এখন দেখার বিষয় আমাদের দেশে আমরা কতোদিন পর বুলেট ট্রেনে চড়তে পারি।