ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : মিরসরাই

ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ৫ জনের

নিজস্ব প্রতিনিধি, মিরসরাই

মিরসরাইয়ে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এসময় ৫টি অটোরিক্সাকেও চাপা দেয় ঘাতক ট্রাকটি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি বাজারের সিএনজি স্ট্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের শামসুল আলমের পুত্র সিএনজি অটোরিকশা চালক শাহ আলম (৪০), একই গ্রামের আবছারের পুত্র দিদারুল আলম (৩৫), আব্দুর রহমানের পুত্র মোশারফ (২৬), মিরসরাই সদর ইউনিয়নের উত্তর গড়িয়াইস গ্রামের নূর নবীর পুত্র কামরুল (৪৫), ও অটোরিকশার যাত্রী ইছাখালী ইউনিয়নের ঝুলনপোল এলাকার জমাদার গ্রামের মো. মহিউদ্দিন (৬০)।
এসময় আহত হন দুর্গাপুর ইউনিয়নের সিএনজি-অটোরিক্সা চালক দুই সহোদর মো. লিটন (২৮), মো. সোহেল (২৪)সহ, মো. নবী (২৮) ও ট্রাক চালক খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার খাগড়াবিল গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে রবিউল হক শাহীন (২২)। শাহীনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জোরারগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। অন্যদের উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।
দুর্ঘটনায় আহত হওয়া সিএনজি-অটোরিক্সা চালক মো. নবী জানান, আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৬টায় ঠাকুরদীঘি বাজারে সিএনজি স্ট্যান্ডে সিএনজি অটোরিক্সা রেখে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল চালকরা। এসময় চট্টগ্রাম থেকে আসা মালামাল ভর্তি দ্রুত গতির একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট- ১৬৫২৩৫) সিএনজি অটোরিক্সাগুলোকে চাপা দেয়। ট্রাকের ধাক্কায় আমি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ি। পরবর্তীতে বিকট একটি আওয়াজ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর দেখি ট্রাকের চাকার নিচে ৪-৫ জনের লাশ পড়ে আছে।
স’ানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন মেম্বার ও মুক্তিযোদ্ধা মো. মোক্তার হোসেন বলেন, চালকের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ট্রাকচাপায় যে ড্রাইভারগুলো নিহত হয়েছেন তারা একেবারে দরিদ্র শ্রেণির। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আরো নিঃস্ব হয়ে গেলো পরিবারগুলো। সরকারিভাবে যদি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস’া করা হয় তাহলে হয়তো মাথা গুঁজার ঠাঁই হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপর ঘটনাস’লে এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন মিরসরাই ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন এবং জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট পুলিশ ফাঁড়ি। পরে ঘটনাস’ল পরিদর্শক করেন উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসমিন শাহীন কাকলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল কবির, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান বিপ্লব।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন কর্মকর্তা মো. শাসছুল আলম বলেন, আমরা সকাল ৭টায় ঘটনাস’লে এসে পৌঁছায়। ট্রাকের চাকার নিচ থেকে ৪ জনের লাশ ও ১ জনকে আহত অবস’ায় বের করি। পরবর্তীতে আহত সিএনসি-অটোরিক্সা চালককে চমেকে নেওয়ার পথে তিনি সীতাকুণ্ড এলাকায় মারা যান বলে শুনেছি।
জোরারগঞ্জ চৌধুরীহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহেল সরকার বলেন, ট্রাক চালক চোখে ঘুম নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। মহাসড়কের ঠাকুরদীঘি সিএনজি-অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে চালক এবং অটোরিক্সার উপর গাড়ি তুলে দিয়ে মহাসড়ক থেকে নিচে নেমে পড়ে ট্রাকটি। এসময় ঘটনাস’লে ৪ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরো ৪ জন।
জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবেদ আলী জানান, ঘটনার পর ট্রাকের চালক রবিউল হক শাহীনকে স’ানীয়রা আটক জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে। এবিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস’তি চলছে।