মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অসি'রতা

টেকনাফ স’লবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ

মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স’লবন্দর দিয়ে প্রায় ২০ দিন ধরে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। গবাদি পশু আমদানি বন্ধ থাকায় স’ানীয় বাজারে মাংসের সংকট দেখা দিয়েছে। মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ অসি’রতার কারণে এমন পরিসি’তি সৃষ্টি হয়েছে।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ উপজেলা পশু ব্যবসায়ী কাসেম বলেন, মিয়ানমারের জাতিগত অসি’রতার কারণে সে দেশের ব্যবসায়ীরা রপ্তানি নিরাপদ মনে করছেন না। সীমান্তে নিরাপত্তা কড়াকড়ি করা হয়। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই চাহিদা থাকলেও সেদেশের ব্যবসায়ীরা পশু পাঠাচ্ছেন না। তাই গত ২০ দিন ধরে পশু আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারীরা।
ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা যায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে টেকনাফ উপজেলার সীমান্তে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানিতেও প্রভাব পড়ছে। মিয়ানমার থেকে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ কাঠ আমদানি হয়। গত তিন সপ্তাহ বন্দরে কাঠ আমদানি বন্ধ। গত জানুয়ারি মাসে স’লবন্দরে কাঠ আমদানি করে সরকার ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত ৩০ লাখ টাকার মত রাজস্ব আয় হয় বলে জানায় শুল্ক বিভাগ।
টেকনাফ শুল্ক বিভাগ জানায়, গত ২৩ জানুয়ারি থেকে টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পশু আমদানি বন্ধ রয়েছে। চলতি বছর ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯১টি গরু, ৪৪০টি মহিষ আমদানি করে ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এরপর থেকে করিডোরে কোনো ধরনের গবাদিপশু আসেনি। চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর চালু করা হয়। করিডোর দিয়ে আসা গরু-মহিষ প্রতি ৫০০ এবং ছাগল থেকে ২০০ টাকা হারে রাজস্ব আদায় করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের তত্ত্বাবধানে সোনালী ব্যাংকে রাজস্ব জমা পড়ে।
জানা যায়, জানুয়ারি মাসে টেকনাফ শুল্ক স্টেশন রাজস্ব আদায় করেছে ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সে মাসে টার্গেট ছিল ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। টার্গেটের চেয়ে ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি মাসে রাজস্বের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে জানায় বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ স’লবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা শংকর কুমার দাশ জানান, মিয়ানমারের পশু শাহপরীরদ্বীপ করিডোর থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে আসছে। স’ানীয় প্রশাসন ও পশু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় তা সম্ভব হয়। গত জানুয়ারি মাসের শেষে মিয়ানমারে অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে গবাদি পশু আসা বন্ধ রয়েছে। শুধু গবাদি পশু ও কাঠ নয়, আমদানি-রপ্তানিসহ সব ধরনের পণ্যতে এর প্রভাব পড়েছে। এতে চলতি মাসে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।