টিআইসিতে কণ্ঠশীলনের নাটক ‘যাদুর লাটিম’

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘যাদুর লাটিম’ অলৌকিকতার আদলে নির্মিত প্রায় দেড় ঘণ্টার একটি সফল নাটক। জাদুময় আবহে দৃশ্যের পর দৃশ্য চলে গেছে চোখের সামনে দিয়ে। কখনো কখনো দর্শককে তা শিহরিত করেছে। কখনো প্রেমরসে আকুল কিংবা কখনো বা বীভৎসতায় ভীত করেছে। তবুও শেষ হতেই যেন মনে হলো- নাটকটি কি শেষ হয়ে গেল?
মঞ্চনাটকের এমন জাদুময়তাই নাটকটিকে বিশিষ্টতা দান করেছে। সেটিই প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে কণ্ঠশীলন এর ‘যাদুর লাটিম’।
ঢাকার কণ্ঠশীলন আবৃত্তির সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনভুক্ত হয়ে ১৯৯৩ সাল থেকে নিয়মিত মঞ্চনাটক প্রযোজনা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় কণ্ঠশীলন এর সপ্তম প্রযোজনা মঞ্চনাটক ‘যাদুর লাটিম’। আর এটির পঞ্চম মঞ্চায়ন হয়ে গেল গতকাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট এর চট্টগ্রামের ল্যাবরেটরি থিয়েটার মঞ্চে।
নোবেল বিজয়ী মিসরীয় ঔপন্যাসিক নাগিব মাহফুজের ‘অ্যারাবিয়ান নাইট্‌স অ্যান্ড ডেজ’ অবলম্বনে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন রাফিক হারিরি। নির্দেশনায় ছিলেন কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষক, নির্দেশক, অধ্যক্ষ মীর বরকত।
এক কাল্পনিক শহরের ইফরিদ-কুফরিদ দুই দুষ্টু জিনের গল্পে আবর্তিত হয়েছে ‘যাদুর লাটিম’। এটি দুষ্টু জিনের গল্প হলেও নাগরিক বাস্তবতার বাইরের কিছু নয়। মানুষের অন্দরে ঘুরে বেড়ানো ইফরিদ আর কুফরিদ কিভাবে মনের মধ্যে সন্দেহ এবং অবিশ্বাসের বিষ ঢুকিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে ভুল পথে নিয়ে যায় তাই পরিস্ফুটিত হয়েছে। আবার ভুল পথে নিয়ে গিয়ে নগরজুড়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে ইন্ধন যোগায়। ফলে জিনের ভেলকিবাজিতে একে একে খুন, ধর্ষণ, অত্যাচার, রাহাজানি, প্রতিহিংসা দিন দিন বেড়ে যায়। তা যেন বর্তমান সময়েরই প্রতিচ্ছবি।
‘পুরো মঞ্চায়নে নাটকের প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা দর্শকের চোখকে তীরের মতো বিদ্ধ করে রেখেছেন। কাহিনী বিন্যাসের সঙ্গে সঙ্গে নৃত্য-সংগীত সহযোগ নাটকটিকে ভিন্ন মাত্রা দান করেছে। রেকর্ডের গানের সঙ্গে নাট্যশিল্পীদের নৃত্যশৈলী আলাদা আবহ তৈরি করতে পেরেছে।’
নাটক দেখতে আসা চাকরিজীবী শামসুল আলম সোহেল বলেন, ‘এই নাটকটি আমার মতো সব দর্শককেই আনন্দ দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করি’।
সেট ডিজাইনের ব্যাপারে খুব বেশি আড়ম্বরতার পরিচয় না দিয়েও মাত্র একটি আদলে পুরো পরিবেশকে তুলে ধরেছেন সেট ডিজাইনার। সেই সাথে আলোর প্রক্ষেপণ, আবহ ছিল মনোমুগ্ধকর।
নাটকটির মঞ্চসজ্জা, পোশাক ও আলোক পরিকল্পনায় ছিলো ফয়েজ জহির।
সংগীত পরিকল্পনা ও সুর সংযোজনে ছিলেন শিশির রহমান। কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন আমিনুল আশরাফ।
বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেছেন রইস উল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, একেএম শহীদুল্লাহ কায়সার, সোহেল রানা, সালাম খোকন, অনন্যা গোস্বামী, জেএম মারুফ সিদ্দিকী, নিবিড় রহমান, আফরিন খান, অনুপমা আলম, রাহনুমা ইসলাম রাখী, মো. আব্দুল কাইয়ুম, লায়লা নজরুল, রুবেল মজুমদার, নিশরাত জেবিন নিশি, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, ফাহিম আবরার, আনিকা মৌনি ও তাসিন ইসলাম।