টানা চতুর্থ জয় ঢাকার

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

রনি তালুকাদের ঝড়ো ফিফটি আর নাঈম শেখের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। পরে রুবেল হোসেন, আলিস আল ইসলামের দারুণ বোলিংয়ে সিলেট সিক্সার্সকে সহজেই হারিয়ে পেয়েছে তারা টানা চতুর্থ জয়। বিপিএলে গতকালের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানে জিতেছে সাকিব আল হাসানের দল। ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৯ উইকেটে ১৪১ রান করে সিলেট। খবর বিডিনিউজ’র।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হজরতউল্লাহ জাজাইকে হারায় ঢাকা। দ্বিতীয় উইকেটে সুনিল নারাইনের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান রনি।
দুটি করে ছক্কা-চারে ২১ বলে ২৫ রান করা নারাইনকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন অলক কাপালী। সাকিবের সঙ্গে ৩৫ রানের আরেকটি জুটিতে দলকে ২ উইকেটে ১০৬ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করান রনি। ৩৪ বলে ৫ চার ও তিন ছক্কায় ৫৮ রান করা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে থামান আফিফ হোসেন।
আল আমিন হোসেনকে উড়ানোর চেষ্টায় দ্রুত ফিরেন সাকিব। প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি দুই অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল ও কাইরন পোলার্ড। চার বলের মধ্যে তাদের সঙ্গে শুভাগত হোম চৌধুরীকে বিদায় করে ঢাকাকে বড় একটা ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ।
১২৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলকে ১৭৩ পর্যন্ত নিয়ে যান নাঈম ও নুরুল হাসান সোহান। অবিচ্ছিন্ন অষ্টম উইকেটে ৩১ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়েন তারা। ২৩ বলে একটি করে ছক্কা-চারে ২৫ রান করেন বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলা নাঈম। সোহান এক ছক্কায় করেন ১৮ রান। সিলেটের পেসার তাসকিন ৩ উইকেট নেন ৩৮ রানে।
রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় সিলেট। ইনিংসের প্রথম ওভারে ডেভিড ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দেন সাকিব। পরের ওভারে আফিফের উইকেট তুলে নেন শুভাগত। তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে লিটন দাসকে বিদায় করেন নারাইন।
সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসে প্রথম বলেই আঘাত হানেন রুবেল। বেরিয়ে এসে তাকে ওড়াতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে যান সাব্বির রহমান। সিলেটের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যান কেবল তিনিই। সিলেটের হয়ে লড়াই করেছেন কেবল নিকোলাস পুরান। অন্য প্রান্তে তাকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারেননি কেউই।
সাকিবের এক ওভারে দুটি ছক্কা হাঁকান পুরান। পরের ওভারে রুবেলকে পরপর দুই বলে ছক্কায় ওড়ান। পরের বলে একই চেষ্টা করতে গিয়ে রনিকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ক্যারিবিয়ান বাঁহাতি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ৪৭ বলে খেলা তার ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৯ ছক্কা ও এক চারে।
সিলেটের আর কেউ যেতে পারেনি বিশ পর্যন্ত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাসকিনের অপরাজিত ১৮।
ঢাকার পেসার রুবেল ৩ উইকেট নেন ২২ রানে। দুটি করে উইকেট নেন সাকিব ও শুভাগত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন অফ স্পিনার আলিফ আল ইসলাম। ৫৮ রানের ঝড়ো ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রনি।