টাইগারদের পরীক্ষায় ফেলতে পারেন স্ট্রিক

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার হিথ স্ট্রিক। মাশরাফি, রুবেল ও তাসকিনদের বোলিং দীক্ষা দিতে বিসিবি’র সাথে দুই বছরের মেয়াদে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন তিনি। ঠিক দুই বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়ে দেন বিসিবির সাথে আর থাকছেন না স্ট্রিক। লাল-সবুজের ক্রিকেটের সাথে সব রকম হিসেব নিকেশ চুকিয়ে ২০১৬ সালে যোগ দেন বেঙ্গালুরুতে অবসি’ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে। খবর বাংলানিউজ।
সেই বছরের অক্টোবরেই জিম্বাবুয়ে জাতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন হিথ। মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে কোনো সফলতা এনে দিতে না পারায় ডেভ হোয়াটমোর বরখাস্ত হলে হেড কোচের পদটি শূন্য থাকে। পরবর্তীতে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড সেই শূন্যস’ানটি পূরণ করে হিথ স্ট্রিককে দিয়ে। এখনো সেখানেই বহাল আছেন টাইগারদের সাবেক এই বোলিং কোচ। হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে এ মাসের ১৫ তারিখ থেকে অনুষ্ঠেয় ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে শিষ্যদের নিয়ে গত শুক্রবার এসেছেন এক সময়ের প্রিয় শহরে। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ একটি সিরিজই তিনি আশা করছেন। তিন জাতির এই টুর্নামেন্টে শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি তার দলের অপর প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এই সেই বাংলাদেশ যে যার ক্রিকেটারদের তিনি দুই বছর দেখভাল করেছেন। যে দেশের কন্ডিশন, উইকেট, প্লেয়ার সবই তার নখোদর্পনে। আরও মজার ব্যাপার হলো, মাত্র বছর দেড়েক আগেও যে বাংলাদেশের হয়ে তিনি রণ কৌশল সাজিয়েছেন, সেই বাংলাদেশই আজ তার প্রতিপক্ষ।
কাজেই তার দলের বিপক্ষে মাশরাফিরা পরীক্ষায় পড়ে যেতেই পারেন। তার চাইতেও বড় ব্যাপার হলো মাস খানেক আগে এই মিরপুরের উইকেটেই বিপিএল খেলে গেছেন তার চার শিষ্য, গ্রায়েম ক্রেমার, ম্যালকম ওয়ালার, সিকান্দার রাজা ও সোলোমান মিরে। গতকাল মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তেমনই আভাষ দিলেন এই জিম্বাবুয়ান হেড কোচ, ‘এটা অনেকটা বাড়ির বাইরে নিজের আরেক বাড়িতে আসার মতোই। খুবই ভাল লাগছে। খুব বেশি দিন হয়নি আমি এখানে দুই বছর কাটিয়ে গেছি। যা হোক ভাল একটি ত্রিদেশীয় সিরিজের আশা করছি।’ কাজটি কী অতটাই সহজ হবে? টুর্নামেন্টে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ টাইগারদের সদ্য বিদায়ী হেড কোচ হাথুরুসিংহের শ্রীলঙ্কা। হাথুরু যখন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ তখন তিনি বোলিং কোচ। খুব কাছ থেকে তিনি হাথুরুসিংহের ম্যাচ পরিকল্পনা দেখেছেন। এও দেখেছেন তার আঁকা নীল নকশায় টাইগারদের কাছে কত বাঘা বাঘা দল হারের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। সিরিজটি তাদের জন্য অনেকটা মিলন মেলার মতো হলেও ঘরের মাঠে প্রায় তিন বছর দুর্দান্ত বাংলাদেশ ও হাথুরুর মতো কৌশলী কোচের হাত থেকে ম্যাচ বের করে আনা সহজ হবে না বলে সোজা জানিয়ে দিলেন।
হিথ আরও বলেন, ‘হাথুরুসিংহে ও বাংলাদেশের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সুজনের সাথে আমার খুবই ভাল সম্পর্ক। আমার মনে হয় পুরো সিরিজ জুড়েই আমাদের চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমরা যেমন এখানকার প্লেয়ারদের ও কন্ডিশন সম্পর্কে জানি তেমনি হাথুরুও জানে। তাছাড়া জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন প্লেয়ার এখানে বিপিএল খেলেছে। এতে করে টেকনিক্যাল বিষয় সমূহ ও মাঠের পরিকল্পনা ভালভাবে করার একটি সুযোগ পাওয়া যাবে।’