ঝুলে আছে ১০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটিয়া

ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরোধের জেরে পটিয়ায় প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ ঝুলে রয়েছে। উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা প্রকল্পের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে যেনতেন উপায়ে টাকা ভাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ স’গিত করেছেন ইউএনও মো. রাসেলুল কাদের। অন্যদিকে প্রকল্পের টাকা পেতে মরিয়া ইউপি চেয়ারম্যানরা। টাকা না পেয়ে ইউএনও’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তার বদলি দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যানরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেছেন। এভাবে দুপক্ষের অনমনীয় অবস’ানের কারণে উপজেলা প্রশাসনে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস’ার। ঝুলে রয়েছে ১৭ ইউনিয়নের কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনও রাসেলুল কাদের পটিয়ায় যোগদান করেন। তিনি যোগদানের আগে
উপজেলা পরিষদের ফান্ডে ৫ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। ঘাটতির কারণে ২০১৭-২০১৮ বছরের স’াবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের হিস্যা অনুযায়ী প্রাপ্ত বরাদ্দকৃত অর্থের ১% এর প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার চেক ছাড় দেওয়া হয়নি। তাছাড়া আরো ১৫ কোটি টাকার প্রকল্প জমা রয়েছে ইউএনও’র হাতে। প্রকল্পের অর্থ ছাড় না দেওয়া ছাড়াও আরও নানা বিষয়ে ইউএনও’র সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
স’ানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউএন’র দূরত্বের কারণে পটিয়া উপজেলায় এডিবি ও রাজস্বের প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ ঝুলে রয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নে ১৩ লাখ টাকা, জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে ৫ লাখ ৭৫ হাজার, কোলাগাঁও ইউনিয়নে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার, আশিয়া ইউনিয়নে ৭ লাখ ১৮ হাজার, শোভনদণ্ডী ইউনিয়নে ৮ লাখ ৬২ হাজার, হাইদগাঁও ইউনিয়নে ১২ লাখ ৪৫ হাজার, ধলঘাট ইউনিয়নে ৯ লাখ ৩২ হাজার, দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে ৫ লাখ ২০ হাজার, খরনা ইউনিয়নে ৮ লাখ ১৯ হাজার, কেলিশহর ইউনিয়নে ৮ লাখ ৬০ হাজার, ছনহরা ইউনিয়নে ৭ লাখ ৩২ হাজার, হাবিলাদ্বীপ ইউনিয়নে ১১ লাখ ৫ হাজার, বড়লিয়া ইউনিয়নে ১০ লাখ ১৬ হাজার, জিরি ইউনিয়নে ২০ লাখ ৫০ হাজার, ভাটিখাইন ইউনিয়নে ৪ লাখ ৭ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজের তালিকা উপস’াপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্প তদারকি না করে অগ্রিম অর্থ ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী স’াবর সম্পত্তি হস্তান্তর করের হিস্যার প্রাপ্ত বরাদ্দের টাকা প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে একবার ছাড় দেওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের দাবি ইউএনও রাসেলুল কাদের যোগদানের আগে ১% এর টাকা বছরে ২-৩ বার ছাড় দিয়েছিল। তিনি (ইউএনও) যোগদানের পর প্রকল্প কাজের অর্থ ছাড় না দেওয়ার কারণে উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ ঝুলে রয়েছে।
জানা যায়, ইউএনও রাসেলুল কাদের যোগদানের আগে থেকেই পূর্বের উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গেও স’ানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ইউএনও আবদুল্লাহ আল মামুনকে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যেতে হয়েছে। একইভাবে বদলি হতে হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাশেমকেও। ইউপি চেয়ারম্যানদের বিভিন্ন অযৌক্তিক প্রকল্প তদারকি করতে গেলে মূলত এই দ্বন্দ্ব শুরু হয় বলে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান।
অন্যদিকে কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম ইনজামুল হক জসিম ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে সুপ্রভাতকে বলেন, নতুন ইউএনও যোগদানের পর উন্নয়ন কাজে ব্যাঘাত হচ্ছে। কচুয়াই ইউনিয়ন ছাড়াও উপজেলার ১৭ ইউনিয়নে বর্তমানে ১% প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের ১% অর্থ ইউএনও ছাড় না দিয়ে নিজের নামে পে-অর্ডার করে রেখে দিয়েছেন। ইউএনও’র বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ জুলাই এডিসি (জেনারেল) মো. হাবিবুর রহমান তদন্তও করেছেন।
জানতে চাইলে ইউএনও মো. রাসেলুল কাদের বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা ১% এর যেসব প্রকল্প উপস’াপন করেছেন তা কাজের অগ্রগতি দেখে টাকা ছাড় দেওয়া হবে। যেনতেন উপায়ে কেউ টাকা পাবে না। অতীতে কোন ইউএনও বছরে কতবার টাকা ছাড় দিয়েছেন তা এখন ধর্তব্যের মধ্যে পড়ে না। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে তিনি প্রকল্পের টাকা ছাড় দিবেন। কিছু কিছু চেয়ারম্যান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টাকা ভাগানোর চেষ্টা করছেন যা ইতিমধ্যে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।