ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে

সম্পাদকীয়

বর্ষা এলেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে পাহাড়ি এলাকা। গত কয়েক বছর ধরে প্রায় নিয়মিত পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে এবং এতে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে নিয়মিত। রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স’ানে ইতিমধ্যে পাহাড়ধসের সংবাদ পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের জন্য এখন পাহাড় বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক পাহাড়ধসের আশঙ্ককার সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড় কেটে বসতি স’াপন করা রোহিঙ্গাদের বিষয়টি। রোহিঙ্গাদের তড়িঘড়ি করে আশ্রয় দিতে গিয়ে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার অনেক পাহাড় কাটা হয়েছে। কাটা পাহাড়ের চূড়া, পাহাড়ের গায়ে এবং পাদদেশে নির্মাণ করা হয়েছে রোহিঙ্গা বসতি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ধসের আশঙ্কা ও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার ও বিভিন্ন দাতা সংস’ার কাছে বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে। এখন বারবার প্রাণহানি ও প্রশাসনের সর্তকতা সত্ত্বেও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনা যাচ্ছে না। স’ানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সরকারি উদ্যোগ ছাড়াও স’ানীয় ভূমিদস্যু ও দখলদাররা নিজেরাই বনবিভাগের জায়গা দখল করে সেখানে বসতি স’াপন করে তা রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়েছে। ফলে সরকারি হিসাব ছাড়াও পাহাড় বা বনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আরও অনেক রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবির নিয়ে প্রশাসনের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রোহিঙ্গা বসতিগুলো এমনিতেই গড়ে উঠেছে পরিকল্পনাহীনভাবে। তার ওপর এমন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পাহাড়ধস ঘটতে পারে। আর একবার পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলে ঘনবসতিপূর্ণ রোহিঙ্গা শিবিরে প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
২০১০ সালের ১৫ জুন কক্সবাজারের টেকনাফ বিভিন্ন স’ানে পাহাড়ধসে ৫৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে টেকনাফেই মৃত্যুবরণ করেছিলো ৩৪ জন। ২০০৮ সালের ৪ ও ৬ জুলাই ও পাহাড়ধসে ১৩ জনের মৃত্যু ঘটে।
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ মিয়ানমার সরকার গ্রহণ করেনি। পরিসি’তি পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধানও হওয়ার নয়। ফলে যা করার তা বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে। অর্থাৎ আসছে বর্ষায় যে পরিসি’তি সৃষ্টি হতে পারে তার জন্য সরকারকে আগাম সতর্কতা করতে হবে। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সমতলের কোনো স’ানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।সরকার বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস’ার নজরে আনতে পারে। এখন থেকে সতর্ক না হলে ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পরে।