ইমরম্নলের সেঞ্চুরি

জয়ে শুরু টাইগারদের দু’দল আজ চট্টগ্রাম আসছে

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক
Bangladeshi cricketer Imrul Kayes celebrates his century (100 runs) during the first one day international (ODI) cricket match between Bangladesh and Zimbabwe at the Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on October 21, 2018. (Photo by MUNIR UZ ZAMAN / AFP) (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের দাপটের দৃশ্যে চোখ রাখলে জিম্বাবুয়ের বিপড়্গে টাইগারদের আধিপত্য প্রত্যাশিতই ছিল। মিরপুরের গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে সেটা মিলেও গেল সফরকারীদের বিপড়্গে বাংলাদেশের ২৮ রানের সহজ জয়ে। আজ দু’দল বিকাল সাড়ে চারটায় চট্টগ্রাম এসে পৌঁছাবে। তারা আগামী ২৪ ও ২৬ অক্টোবর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসের শুরম্নতে যা একটু সংশয়ের মেঘ জন্মেছিল, জিম্বাবুয়ের ওপেনিং জুটির দারম্নণ শুরম্নতে। তবে প্রথম উইকেট পড়ার পর আফ্রিকান দেশটি একবারের জন্যও চেপে ধরতে পারেনি বাংলাদেশকে। বরং ম্যাচ শেষ হওয়ার অনেক আগে থেকেই মাশরাফিরা পেতে থাকে জয়ের সুবাস। ২৭১ রান করার পর বল হাতে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে ২৪৩ রানে থামিয়ে যেটা চূড়ানত্ম করে বাংলাদেশ। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
স্বাগতিকদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ের কোনও ব্যাটসম্যানই সুবিধা করতে পারেননি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫০ রান করেছেন শন উইলিয়াম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে কাইল জার্ভিসের ব্যাট থেকে। বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, ৪৬ রান খরচায় তিনি পেয়েছেন ৩ উইকেট। আর ২ উইকেট শিকার নাজমুল ইসলামের।
মেহেদী হাসান মিরাজ তুলে নিলেন তার দ্বিতীয় উইকেট, আর ফজলে রাব্বির থ্রোতে ভেঙে গেল স্টাম্প। বাংলাদেশের জোড়া আঘাতে আরো এলোমেলো জিম্বাবুয়ে।
পিটার মুরকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান মিরাজ। এলবিডাবিস্নউয়ের ফাঁদে ফেলে এই ব্যাটসম্যানকে আউট করেন তিনি ২৬ রানে, ৪৫ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ২ চার ও ১ ছক্কায়। মুরের আউটের খানিক পরই জিম্বাবুয়ে হারায় ডোনাল্ড তিরিপানোকে। ঝুঁকিপূর্ণ রান নেওয়া সময় রাব্বির চমৎকার থ্রোতে রান আউট হয়ে ফেরেন তিনি মাত্র ২ রান করে।
বোলিংয়ে শুরম্নটা খুব বাজে হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। যদিও শুরম্নর হতাশা বাতাসে মিলিয়ে দিলেন তিনি বাংলাদেশের উইকেট উৎসবে যোগ দিয়ে। এই স্পিনার তার উইকেটের খাতা খুলেছেন ক্রেইগ এরভিকে ফিরিয়ে।
মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে বোলিং শুরম্ন করেছিলেন মেহেদী। জিম্বাবুইয়েন ওপেনারদের তা-বে প্রথম স্পেলে ছিলেন ব্যর্থ। অন্য সতীর্থরা বল হাতে উইকেট উৎসব করলেও তিনি ছিলেন দর্শকের ভূমিকার। অবশেষে ২৬তম ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের খাতা খোলেন এই স্পিনার। তার বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে ফিরে যান এরভিন। আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান ৪৮ বলে করেন ২৪ রান।
আবারও উইকেট নাজমুল ইসলামের, আরো একবার স্টাম্প থেকে বেল উড়িয়ে ফেললেন মাটিতে। এবার এই স্পিনারের শিকার সিকান্দার রাজা।
নিজের প্রথম উইকেটটিও নাজমুল তুলে নিয়েছিলেন বোল্ড করে। ব্রেন্ডন টেলরের পর সিকান্দারকেও ফেরালেন একইভাবে। লেগ স্টাম্পে পড়া বল বাঁক খেয়ে ভেঙে দেয় উইকেট। বাংলাদেশি স্পিনারের শিকার হওয়ার আগে সিকান্দার ২২ বলে করেন ৭ রান।
বলটা বুঝতেই পারলেন না ব্রেন্ডন টেলর। নাজমুল ইসলামের বাঁক নেওয়া বল সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পে। এই স্পিনারের শিকারে বাংলাদেশ পায় দ্বিতীয় উইকেট। পরে নাজমুলের করা ওভারেই রান আউট হয়ে ফিরেছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে উইকেটের খাতা খোলেন নাজমুল। মিডল স্টাম্পে পড়া বল হঠাৎ বাঁক নিয়ে আঘাত করে অফ স্টাম্পে, ব্যাটসম্যান টেলর রড়্গণাত্মক ভঙ্গিতে খেললেও শেষ রড়্গা হয়নি। বাংলাদেশি স্পিনারের বলে আউট হওয়ার আগে এই ব্যাটসম্যান করেন মাত্র ৫ রান।
টেলরের আউটের আঘাত কাটিয়ে ওঠার আগেই আবার ধাক্কা খায় আফ্রিকান দেশটি। দুঃখজনক রান আউটে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান অধিনায়ক মাসাকাদজা। ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ইমরম্নল কায়েসের থ্রো উইকেটরড়্গক মুশফিকুর রহিম অনেকটা ঝাঁপিয়ে ভেঙে দেন স্টাম্প। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে মাসাকাদজা ৩৪ বলে করেন ২১ রান।
বাংলাদেশের বিপড়্গে প্রথম ওয়ানডেতে ২৭২ রানের টার্গেটে নেমে সতর্ক ব্যাটিং শুরম্ন করে জিম্বাবুয়ে। মাশরাফি মুর্তজা ও মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার কেপাস ঝুওয়াও ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তবে একপ্রানেত্ম ঝড় তোলেন ঝুওয়াও। শেষ পর্যনত্ম বল হাতে নিয়েই তাকে ক্রিজ থেকে বিদায় করলেন মোসত্মাফিজুর রহমান। প্রথম বলটি ওয়াইড দেওয়ার পর এই ওপেনারকে বোল্ড করেন তিনি। ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ২৪ বলে ৪টি চার ও ২ ছয়ে ৩৫ রান করেন ঝুওয়াও।
ওপেনিংয়ে ফিরেই সেঞ্চুরি পেয়েছন ইমরম্নল কায়েস। এশিয়া কাপের নিচের দিকে ব্যাটিংয়ে নামলেও জিম্বাবুয়ের সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে খেললেন তিনি ওপেনারের ভূমিকায়। ফিরেই নিজের ওপেনিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন ইমরম্নল। তার দুর্দানত্ম শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে স্বাগতিকরা করেছে ২৭১ রান।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেলেন ইমরম্নল। ৫০ ওভারের ম্যাচে প্রায় দুই বছর পর পূরণ করলেন আরেকটি শতক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে শেষবার সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন এই ওপেনার ইংল্যান্ডের বিপড়্গে। ১১৮ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা পান ইমরম্নল। শেষ পর্যনত্ম খেলে যান ১৪৪ রানের ঝলমলে ইনিংস। তার সঙ্গে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের (৫০) কার্যকরী হাফ সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পেয়েছে লড়াই করার মতো পুঁজি।
ইমরম্নল তার ১৪০ বলের ইনিংস সাজিয়েছেন ১৩ চার ও ৬ ছক্কায়। ১৪৪ রানের ইনিংসটি এখন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ। আগের ১১২ রান ইমরম্নল করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপড়্গে। তার সেঞ্চুরির দিনে ওয়ানডেতে ফিরেই ব্যাট হাতে অবদান রেখেছেন সাইফউদ্দিন। দলের বিপদের সময় ইমরম্নলকে সঙ্গ দিয়ে বাড়িয়ে নিয়েছেন রান। আউট হওয়ার আগে করেন তিনি ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। ঠিক ৫০ রানের ইনিংস এই অলরাউন্ডার সাজান ৩ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়।
হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার বেশ ভুগছিলেন কাইল জার্ভিস। শুরম্নতে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন পরিচর্যার আশায়। সেই পেসারের আঘাতেই ভাঙে ইমরম্নল কায়েস ও মোহাম্মদ মিঠুনের গুরম্নত্বপূর্ণ জুটি। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ছন্দে থাকা মিঠুন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ৩৭ রানে। এরপর মাহমুদউলস্নাহ ও মেহেদী হাসান মিরাজ সাজঘরে ফিরলে বিপদ বাড়ে বাংলাদেশের। ৪ উইকেট পাওয়া জার্ভিস ঝড়ে এক পর্যায়ে ১৩৯ রানে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ৬ উইকেট।