জ্যাকব জুমাকে আর প্রেসিডেন্ট পদে চায় না তার দল

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট পদে জ্যাকব জুমাকে আর দেখতে চাইছে না তার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এএনসি। দলীয় সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস’া রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সমপ্রচার মাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, জুমাকে এরইমধ্যে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তিনি আস’া ভোটের সম্মুখীন হবেন। সেই ভোটে তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দলের পক্ষ থেকে তাই জুমাকে অপসারিত হওয়ার আশঙ্কাও জানানো হয়েছে। খবর বাংলাট্রিবিউন।
২০১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত জ্যাকব জুমার দায়িত্বের মেয়াদ রয়েছে। তিনি ২০০৯ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আছে। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত ডিসেম্বরে জুমা দলের সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। তার স’লাভিষিক্ত হয়েছেন সিরিল রামাফোসা। বর্তমানে দলের কোন্ও শীর্ষ পদে নেই জুমা। তবে এখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকেও তাকে অপসারণের চিন্তা করছে তার দল। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করেন জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, যা পরবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সোমবারের বিশেষ বৈঠকেই জুমার ভাগ্য নির্ধারণ হয়। দলের শীর্ষ নেতারা মধ্যরাত পর্যন্ত আলোচনার পর জুমাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দলের বর্তমান শীর্ষ নেতা রামাফোসা এএনসির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক থেকে বের হয়ে জ্যাকব জুমার বাসায় যান। দুই দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণ করা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। জুমার বাসা থেকে ফিরে তিনি আবারও বৈঠকে যোগ দেন। এখনও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা আসেনি। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস’া রয়টার্সকে দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন, এই দাবি না মানলে পার্লামেন্টে আস’া ভোটের মুখোমুখি হতে হবে জুমাকে। আর এবার ভোট হলে তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
জ্যাকব জুমা নিজ দলের আনুষ্ঠানিক অনুরোধে সাড়া দিবেন কিনা বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। মঙ্গলবারই তাকে চিঠির মাধ্যমে এই অনুরোধ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা খুব কঠিন হবে। কিন’ দলের সমর্থন হারানোর পরও জুমা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করে কৌশলগতভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে চাইবেন। আর এটা হলে তাকে পার্লামেন্টে আস’া ভোটের মুখোমুখি হতে হবে। দলের অভ্যন্তরেই গ্রহণযোগ্যতা হারানোর কারণে আস’া ভোটে জুমার জেতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। দলের অভ্যন্তরে জুমাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলমান থাকা অবস’ায় বেশকিছু বিরোধী দল প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আস’া ভোটের দাবি জানান। ২২ তারিখ ওই ভোটের তারিখ নির্ধারিত হয়। এবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে পদত্যাগ করতে বলায় নির্ধারিত দিনের আগেই তার বিরুদ্ধে অনাস’া আনা হতে পারে।