পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভারত সফর

জেসিসি বৈঠকে ৪ সমঝোতা স্মারক সই

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের ভারত সফরকালে অনুষ্ঠিত জেসিসির পঞ্চম বৈঠকে দুইদেশের মধ্যে ৪টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। যৌথ পরামর্শক কমিটির সভায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
সমঝোতা স্মারকগুলির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের ১ হাজার ৮০০ সরকারি কর্মকর্তাকে ভারতে প্রশিক্ষণ দান, ঔষধি গাছগাছড়া তৈরিতে ভারতের ‘আয়ুষের’ সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাথে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই’র এর সাথে সহযোগিতা চুক্তি এবং মোংলায় ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ভারতীয় কোম্পানির চুক্তি।
জেসিসি বৈঠকের পর যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দু দেশের সম্পর্ক উন্নত ও সুদূরপ্রসারী করতে হবে এমনভাবে যাতে তা চিরস্থায়ী হয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যথাযথভাবে উদযাপনের কথাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং ঢাকায় বিগত জেসিসি বৈঠকের দু দেশের সহযোগিতার বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে ড. এ কে আব্দুল মোমেন ভারতে ৫দিনের সফরে যান। দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশ দ্রুত তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী দ্রুত এ ব্যাপারে কাজ করার কথা জানান।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও টেকসই উপায়ে দ্রুত রাখাইনে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দুই পররাষ্ট্র মন্ত্রী একমত হয়েছেন। এক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়।
বাংলাদেশ ও ভারত এখন বিশ্বের দ্রুততম আর্থিক প্রবৃদ্ধি অভিমুখে ধাবমান এবং এ ক্ষেত্রে দু দেশের মধ্যে সহযোগিতার ‘সোনালী অধ্যায়’ চলছে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মন্তব্য করেন। বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ খাতে ভারতের ব্যাপক অংশীদারিত্ব রয়েছে। দু দেশের মধ্যে রেল ও নৌ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় বেশ উন্নতি হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতের বিনিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে। সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যার খবর এখন সংবাদপত্রে তেমন আসে না, ভিসা পদ্ধতিও অনেক সহজ হয়েছে।
তবে অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। তিস্তা ছাড়া আরও প্রায় ৫০টিরও অধিক নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ে যুক্তিসংগত আলোচনা ও মীমাংসা প্রয়োজন। বিশেষ করে অভিন্ন নদী থেকে ভারতের পানি নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সম্প্রতি ভারতের তাদের দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার চেষ্টা দু দেশের মধ্যেকার বিরাজমান সম্পর্কের পরিপন্থি। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ভারত মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে, বাংলাদেশের জনগণ তাই আশা করে। আগামী মার্চ মাসে ভারতের লোকসভার নির্বাচন। আমরা মনে করি, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কোনরূপ সমস্যা হবে না কেননা এই সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।