জেলে পরিবারে চলছে দুর্দিন কক্সবাজারে এখনো ভিজিএফ’র চাল পায়নি ৪৬ হাজার জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

সাগরে মাছ ধরতে যেতে না পারায় অলস সময় কাটছে উপকূলীয় এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের। সাগরের উপর নির্ভরশীল এসব জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ জেলে পরিবারের সদস্যরা। বেশির ভাগ জেলে পরিবারই দাদনের কষাঘাতে জর্জরিত। পাওনাদাররা তাদের রীতিমত বিরক্ত করতে শুরু করেছে। পাওনাদারদের থেকে বাঁচতে তারা নানা মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন।
সূত্র জানায়, মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সরকার অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এতে বিপুল সংখ্যক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়ার কারণে মৎস্য ভিজিএফ কর্মসূচি চালু করে। প্রতি বছর যথাসময়ে দেয়া হলেও ইতোমধ্যে ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও চাল পায়নি কক্সবাজারের ৪৬ হাজার জেলে।
জানা যায়, সরকারের বিশেষ বরাদ্দের (মৎস্য) ভিজিএফের চাল প্রতিবছরই সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলে পরিবারগুলো চাল পাওয়ার কথা ছিল। যথাসময়ে চাল না পাওয়ায় তারা অতি কষ্টে জীবন-যাপন করছেন। তবে জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে এখনো বরাদ্দ আসেনি।
মহেশখালীর মুদিরছড়ায় জেলে পল্লীতে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য জেলে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে আছেন। ওই এলাকার জেলে শাহ আলম জানান, ‘খুব কষ্টের মধ্যে ১২দিন পার করেছি। আমাদের কোনো কাজ না থাকায় কেউ টাকা ধারও দিচ্ছেনা। ফলে আমরা চরম অসহায় অবস’ার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। সরকার ভিজিএফ দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো চাল পাইনি’।
সোনাদিয়া এলাকার জেলে জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ‘এই এলাকার লোকজন সামুদ্রিক মৎস্যের উপর নির্ভরশীল। এখন মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলে পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা। কোনো সহায়তা না পাওয়ায় অনেকেই অভুক্ত দিন কাটাচ্ছেন’।
নাজিরারটেকের মৎস্য ব্যবসায়ী ওসমান সরওয়ার জানিয়েছেন, ‘যথাসময়ে ভিজিএফ না পেলে এমন সহায়তার প্রয়োজন হয় না। যখন জেলেরা আর্থিক সমস্যায় পড়ে তখনই সহায়তার প্রয়োজন। সুসময়ে সাহায্য লাগেনা’।
শহরের নুনিয়াছড়ার আবদু শুক্কুর মাঝি জানিয়েছেন, ‘আমাদের আয় সাগরে। পরিবারের খাওয়ারের জোগান দেয়ার জন্য ঝড়-তুফানের মধ্যেও মাছ ধরতে সাগরে যাই। কিন’ এখন ভাল সময়েও কাজ না থাকায় অভুক্ত থাকতে হচ্ছে। ২২ দিন চলে গেলে আর চালের প্রয়োজন হবে না’।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল আলীম জানান, ‘কক্সবাজার থেকে ৪৬ হাজার জেলের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছিল। ত্রাণমন্ত্রণালয় থেকে এখনো চিঠি আসে নি। বরাদ্দ আসলে জেলা প্রশাসকের কাছেই আসবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই ভিজিএফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করবেন’।