জেলা পুলিশের মালখানা আলামত চুরি নিয়ে নান প্রশ্ন

সরকার হাবীব

জেলা পুলিশের মালখানায় কে বা কারা চুরির ঘটনা ঘটালো? মালখানা থেকে ঠিক কতগুলো মামলার আলামত চুরি গেছে? ঘটনায় কেন এখন পর্যনত্ম কোনো মামলা হলো না? এসবের প্রশ্নের কোনো একটির সঠিক উত্তর এখন পর্যনত্ম দিতে পারেননি প্রশাসন। মালখানা থেকে আলামত চুরির ঘটনা এখন পর্যনত্ম রয়ে গেছে রহস্য ঘেরা। প্রশাসন কেন উলেস্নখিত প্রশ্নগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটির সদুত্তর এখন পর্যনত্ম দিতে পারছেন না। সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সংশিস্নষ্টরা বলছেন, আদালত পাড়ায় বহিরাগত কেউ গিয়ে মালখানার মতো সরকারি স’াপনায় চুরি করার সাহস দেখাবে না। এখানে বিষয়টি রহস্য ঘেরা। এমনো হতে পারে এ ঘটনায় মালখানার সাথে সংশিস্নষ্ট কেউ জড়িত। প্রশাসনও সেটা বুঝতে পেরেছে। আর তাই এখন পর্যনত্ম চোরকে তা সনাক্ত করেন নি প্রশাসন এবং সেজন্য উক্ত ঘটনায় কোনো মামলাও করেননি প্রশাসন।
এদিকে মালখানায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত পাড়ায় তৈরি হয়েছে একধরনের উৎকণ্ঠা, দেখা দিচ্ছে নানান প্রশ্ন। এ তালিকায় রয়েছে আদালত সংশিস্নষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরম্ন করে বিচার প্রার্থী সাধারণ জনগণ এবং আইনজীবীরা। তারা বলছেন, আদালত পাড়ায় যা যা রয়েছে তার সবই গুরম্নত্বপূর্ণ স’াপনা। এসবের কোনো একটির এদিকে সেদিক হলে বিচার ব্যবস’ার ড়্গতি হবে। ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন বিচারপ্রার্থীরা।
নগর পিপি ফখরম্নদ্দিন আহমদ বলেন, মালখানায় থাকা আলামতগুলো মামলার প্রাণ। এই প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। সেই সাথে ঘটনাটি কে বা কারা ঘটিয়েছে এবং মালখানা থেকে কতগুলো আলামত চুরি গেছে তা বের করতে না পারা আরও বেশি দুঃখজনক। কর্তৃপড়্গের উচিত গুরম্নত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদনত্ম করা এবং চোর সনাক্ত করা। আর এক প্রশ্নের জবাবে পিপি ফখরম্নদ্দিন আহমদ বলেন, সর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে থাকতেও পারে। ভূত থাকুক আর না থাকুক তা প্রশাসনকে বের করতে হবে।
জেলা পুলিশের পড়্গ থেকে করা তদনত্ম টিমের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান ভূইয়া বলেন, চুরির ঘটনাটি এখনো তদনত্ম চলছে। সবকিছু খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। তিন-চারদিন পর সবকিছু তারা স্পষ্ট করবেন। কে বা কারা ঘটনায় জড়িত, কি পরিমাণ মামলার আলামত ঁ
চুরি গেছে তাও জানানো হবে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরম্নদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস’া নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ সোমবার রাতে নতুন আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা জেলা পুলিশের মালখানায় ঘটেছে নাটকীয় চুরির ঘটনা। পরদিন সকালে মালখানার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক শওকত হোসেন জেলা মালখানার প্রধান গেটের তালা খুলতে গিয়ে দেখতে পান সেখানে নতুন একটি তালা ঝুলানো। আগের দিন রাতে মালখানার কার্যক্রম শেষ করে লাগানো তালাটি সেখানে আর নাই। বিষয়টি তাৎড়্গণিক পরিদর্শকের কাছে খটকা লাগলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপড়্গের অনুমতি নিয়ে নতুন তালাটি ভেঙে ভেতরে ঢুকেন। ভেতরে ঢুকেই তিনি বুঝতে পারেন চুরি গেছে মামলার বেশ কিছু আলামত। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেন এবং ১৭ মার্চ মালখানার নিরাপত্তায় দায়িত্বরত থাকা দুজন কন্সটেবল খলিলুর রহমান এবং মনিরম্নজ্জামানকে সাময়িক বহিষ্কার করেন এবং ঘটনা তদনেত্ম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান ভূইয়ার নেতৃত্বে একটি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিবলু কুমার দের নেতৃত্বে আরও একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এরপর গত ১৯ মার্চ মঙ্গলবার রাতে কোর্ট পুলিশ জানায়, মালখানা থেকে ২৭ লাখ ২২ হাজার ৯৭১ টাকা, ৩৫ পিস ইয়াবা এবং কিছু মোবাইল সেট চুরি হয়। এ চুরি যাওয়া অংশে ৬৪টি মামলার আলামত রয়েছে। পরের দিন কোর্ট পুলিশ আরও জানায়, তারা এখনো নিশ্চিত নয় মালখানা থেকে কি পরিমাণ আলামত চুরি গেছে এবং কতটি আলামত চুরি গেছে। বিষয়টি তারা এখনো ড়্গতিয়ে দেখছেন। সবকিছু স্পষ্ট হওয়ার পর চোরদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস’া নেওয়া হবে এবং সেটি সরকারি গুদাম ঘর থেকে চুরি করার অপরাধে দ-বিধির ৪৬১/৩৮০ ধারা অনুযায়ী।