জেলা আইনজীবী সমিতি

স্বস্তিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিএনপিপনি’রা

নিজস্ব প্রতিবেদক

জেলা আইনজীবী সমিতির নব নির্বাচিত কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ১২টি পদ পেয়ে সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়েছে বিএনপিপনি’ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ। অন্যদিকে সভাপতিসহ ৭টি পদ পেয়ে কিছুটা বেকায়দায় আওয়ামী সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। সাধারণ আইনজীবী ও বিজ্ঞ আইনজীবীরা মনে করছেন নির্বাচনের আগে নেতৃত্বে ফাটল দেখা দেওয়ায় ফলাফলে এমনটা পরিবর্তন। অথচ গত কমিটিতে
সংখ্যাগরিষ্টতা ছিল সমন্বয় পরিষদের।
আইনজীবীদের জন্য নব নির্মিত শাপলা ভবনকে কেন্দ্র করে গত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসায় আওয়ামীপনি’দের ভোট ভাগাভাগি হয়ে যায়। সাধারণ সম্পাদক পদে আবু হানিফকে গত নভেম্বর মাসে মনোনয়ন দেয় সমন্বয় পরিষদ। অথচ বিরোধ দেখা দিলে তাঁকে সরিয়ে সাবেক জেলা পিপি আবুল হাশেমকে দেওয়া হয় মনোনয়ন।
আওয়ামীপনি’র বিরোধ সামাল দিতে নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা ছুটে আসেন বন্দর নগরী পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত হানিফ-হাশেম দুজনকেই বাদ দিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে তৃতীয় বারের মতো মনোনয়ন দেওয়া হয় আদালতে কম পরিচিত উত্তম কুমার দত্তকে।
হানিফ তাঁর জায়গায় অটল থেকে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করে বিএনপিপনি’ নাজিম উদ্দিনের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান। হেরে যান উত্তম কুমার দত্তও।
ফলে সমিতির মোট ১৯ টি পদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকসহ ১২টি পদে বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীরা এবং সভাপতিসহ বাকি মাত্র সাতটি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
সভাপতি পদে শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী একহাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপিপনি’ এ এস এম বদরুল আনোয়ার পেয়েছেন এক হাজার ৭৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এক হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু হানিফ পেয়েছেন ৬৪৪ ভোট।
আইনজীবী ঐক্য পরিষদের অন্য জয়ীরা হলেন- সহ-সভাপতি নুরুদ্দিন আরিফ চৌধুরী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাসনা হেনা, অর্থ সম্পাদক শফিউল হক চৌধুরী, পাঠাগার সম্পাদক নুরুল করিম। নির্বাহী সদস্য মো. লোকমান, আকিব চৌধুরী, এইচ এস সোহরাওয়ার্দী, এনামুল হক, হাসান কায়েস, এহছানুল হক ও মো. ইয়াছিন জয়ী।
সমন্বয় পরিষদের জয়ীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি ছুরত জামাল, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন খোকন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে রাশেদুল আলম। নির্বাহী সদস্য পদে সেলিনা আক্তার, ইয়াছিন মাহমুদ তানজীল ও ফারহানা রবিউল লিজা। নির্বাচনে তিন হাজার ৭ শত ৪০ জন ভোটারের মধ্যে মোট তিন হাজার ৮৫ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য দুটি প্যানেল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল ভাবধারায় বিশ্বাসী সমমনা আইনজীবী সংসদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির প্রার্থীরা কোনো পদে জয়ী হননি।
আওয়ামীপনি’ সাবেক সভাপতি রতন কুমার রায় সুপ্রভাতকে বলেন, সমন্বয়য়ের মধ্যে দুর্নীতিবাজ প্রবেশ করায় করায় আমরা মনে করেছি একটি পদও পাব না। কিন’ আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকায় সভাপতিসহ ৭ টি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে। আশা করি বর্তমান নেতৃত্ব দুর্নীতিমুক্ত বার গঠনের মাধ্যমে সমন্বয়ের সুনাম ফিরিয়ে আনবে।