জাহাজ ভিড়লো মহেশখালীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
BG2018042321212920180424174901

এক লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে মহেশখালীতে ভিড়লো এক্সিলারেন্স। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেডের জাহাজ এক্সিলারেন্স কাতার থেকে এই গ্যাস নিয়ে দুবাই হয়ে গতকাল দুপুর দুইটায় মহেশখালীতে ভিড়েছে। এখন এই জাহাজ থেকে রিগ্যাসিফিকেশন প্রক্রিয়ার কাজ করা হবে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে। তবে এখনো উদ্বোধনের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।
পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস শাখার উপ-মহাব্যবস’াপক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘কাতার থেকে এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজটি গতকাল দুপুর দুইটায় মহেশখালীতে ভিড়েছে। এখন এই জাহাজ থেকে গ্যাসে রূপান্তর এবং তা পাইপলাইনে সরবরাহের অনেকগুলো প্রক্রিয়া রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন করতে কিছু সময় লাগবে। আর তা শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে কথা রয়েছে।’
কবে নাগাদ তা উদ্বোধন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। তবে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হবে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর প্রস’তি নিয়ে জানতে চাইলে এর মহাব্যস’াপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মনজুরুল হক বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা প্রি কমিশনিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছি। আমাদের পাইপলাইন ঠিক রয়েছে। এখন জাহাজ ভেড়ার পর গ্যাস কমিশনিং করে পাইপলাইনে দিতে কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। তবে যখনই গ্যাস দেয়া হউক না কেন গ্যাস গ্রহণের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস’ত।’
জানা যায়, দিনে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস সরবরাহের কথা থাকলেও প্রথম দিকে তা পুরোপুরি
সরবরাহ করা হবে না। ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে গ্যাসের পরিমাণ। প্রথমে যে জাহাজ দিয়ে এলএনজি এসেছে এই জাহাজটি মহেশখালী উপকূল থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে অবস’ান করবে। এই জাহাজের গ্যাস শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে আরেকটি জাহাজ এলএনজি নিয়ে এসে জাহাজটিতে দিয়ে চলে যাবে। আর এই জাহাজ থেকে রি-গ্যাসিফিকেশন করে সাগরের তলদেশের পাইপলাইন দিয়ে উপকূলে সরবরাহ করা হবে।
চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের সমস্যা। নগরীতে দিনে প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন থাকলেও সরবরাহ করা হয় মাত্র ২০৭ থেকে ২০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এরমধ্যে খাগড়াছড়ির সেমুতাং থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের বাইরে পুরো গ্যাসই আসে জাতীয় গ্রিড থেকে। এখন মহেশখালীতে স’াপন করা এফএসআরইউ (ঋষড়ধঃরহম ঝঃড়ৎধমব ধহফ জবমধংরভরপধঃরড়হ টহরঃ) থেকে দিনে আসবে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
উল্লেখ্য, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ কমে যাওয়ায় এলএনজি ছাড়া গ্যাস সমস্যা সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। একারণেই ২০১০ সালে নেওয়া প্রকল্পের চুক্তি হয় ২০১৬ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেডের সাথে। সেই চুক্তির আলোকে মহেশখালীতে ভাসমান এফএসআরইউ ইউনিট স’াপনের মাধ্যমে গ্যাস আসবে জাতীয় গ্রিডে। সরকার এলএনজি আমদানি করবে, আর সেই এলএনজি গ্যাসে কনভার্ট করবে এক্সিলারেট। গত বছর পাইপলাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর শুরু হওয়া এফএসআরইউ স’াপনের কাজ শেষ হয় সম্প্রতি। আজ ২৫ এপ্রিল বুধবার মহেশখালীতে এলএনজিবাহী জাহাজ ভেড়ার ঘোষণা থাকলেও একদিন আগেই গতকাল দুপুরে তা ভিড়ে।