২২ মার্চ-’৭১

জাতীয় পরিষদের অধিবেশন পুনরায় স্থগিত

২২ মার্চ ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুকে পরিষদ অধিবেশনে যোগদানে রাজী করাতে না পেরে মতৈক্যের ক্ষেত্র স্মপ্রসারণ সুযোগ প্রদানের অজুহাতে ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয়ী পরিষদের অধিবেশন পুনরায় স’গিত ঘোষণা করেন।
তাঁরা আর প্রাক্তন সৈনিক নন
বায়তুল মোকাররমে এদিন প্রাক্তন মেজর জেনারেল এমআই মজিদের সভাপতিত্বে প্রাক্তন সৈনিকরা এক সভা করে ঘোষণা করেন, তাঁরা আর প্রাক্তন সৈনিক নন। এ সভায় বক্তব্য দেন কর্নেল ওসমানী, ফ্লা. লে. খলিল উল্লাহ, কমান্ডার জয়নুল আবেদীন, আশরাফ মাহমুদুন্নবী, সৈয়দ আহমদ প্রমুখ প্রাক্তন সৈনিকেরা। সভায় উপসি’ত ছিলেন সাবেক মেজর ও কনভেনশননেতা খাজা হাসান আসকরী (পরে পাক সমর্থক শান্তি কমিটির নেতা), মেজর শফিউল্লাহ, লে. কর্নেল ইনাম হোসেন, মেজর আফসারউদ্দিন, ক্যাপ্টেন ইবরাহিম, মেজর জামাল, ক্যাপ্টেন আহসান, কমান্ডার শাহাবুদ্দিন প্রমুখ প্রাক্তন সেনা অফিসার। সভায় ইয়াহিয়া খান দাবি না মানলে আলোচনা থেকে সরে এসে নিজেই বাংলাদেশের সরকার গঠনের জন্য বঙ্গবন্ধুর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে তাঁরা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যান।
লেখক সংগ্রাম শিবির কবিতা পাঠের আসরে স্বাধীনতার দাবি জানায়।
বৈঠক প্রহসন
ভুট্টো এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তিনি মুজিব-ইয়াহিয়ার মতৈক্যের শর্ত পরীক্ষা করে দেখেছেন। ৪ দফা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা থেকে তিনি বিরত থাকেন। মুজিবের সাথে তাঁর বৈঠক সম্পর্কে বলতে বলা হলে তিনি মুজিবের সাথে তাঁর আলোচনা সন্তোষজনক বলে দাবি করেন। তবে তিনি আরো বৈঠকের আশা করেন বলে জানান। এদিন বঙ্গবন্ধু-ভুট্টো-ইয়াহিয়ার মাঝে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বঙ্গবন্ধু এ বৈঠকে ৭০ মিনিট থাকলেও ভুট্টো ইয়াহিয়ার সাথে আরো ১ ঘন্টা অবস’ান করেন। বঙ্গবন্ধু এদিনও বলেন, আলোচনা সন্তোষজনক।
ভুট্টোর ৫ জন আইনজ্ঞ ও প্রেসিডেন্টের ৪ জন্য উপদেষ্টার মাঝে বৈঠক হয়। ইয়াহিয়া আবার পশ্চিমের সংখ্যালঘু ৫ জন নেতার সাথে বৈঠক করেন। এ কে ব্রোহী বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরে কোন সাংবিধানিক বাধা নেই।
ভুট্টোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ
ভুট্টোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। ভুট্টো এদিনও সেনাবাহিনীর প্রহরায় থাকেন। হোটেল ইন্টারকনের কর্মচারীরা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বুকে লাগান।