‘জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে আশাবাদী খসরু-বুলু

নিজস্ব প্রতিবেদক

অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ফোরাম ‘জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে আশার আলো দেখছেন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বরকত উল্লাহ বুলু। বিএনপির স’ায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘জাতীয় ঐক্য’কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত, এ জাতীয় ঐক্য আগামী দিনে জাতিকে মুক্তির সনদ এনে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ভাষা আন্দোলনে, স্বাধীনতার আন্দোলনে, স্বৈরাচার আন্দোলনে জাতি সফল হয়েছে আর স্বৈরাচার পরাজিত হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে। দেশের মানুষ তাদের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দিকে তাকিয়ে আছে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজকে থেকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সূচনা হয়ে গেল। কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার পতন হবে, গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসবে।’
গতকাল নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের শোক সভায় তারা এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করে। সভায় আমীর খসরু প্রধান অতিথি আর বরকত উল্লাহ প্রধান বক্তা হিসেবে উপসি’ত ছিলেন।
গতকাল রাজধানীর নাট্যমঞ্চে অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার’ নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশ নেন।
জাতীয় ঐক্যের এ সমাবেশ প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘এ সমাবেশ জাতিকে একটা সিগন্যাল দিচ্ছে। স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত হতে দেশের মানুষের যে প্রত্যাশা তা পূরণে তারা ঢাকায় মিলিত হয়েছে।’
সাবেক এ বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে দেশে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলন হয়েছে। এরমধ্যে নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছে তা সাধারণ মানুষের মনে দাগ কেটেছে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে এখন জাতির নিরাপত্তার আন্দোলন সামনে আসছে। সামনে আন্দোলন হবে নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য, নিরাপদ ভোট কেন্দ্রের জন্য, নিরাপদ আইন বিভাগের জন্য।’

‘আওয়ামী লীগ তাদের সুবিধামতো সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচনী প্রস’তি নিচ্ছে’ উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘সংসদ বহাল রেখে আর নিরপেক্ষ সরকার বাতিল করে তারা নির্বাচনী প্রস’তি নেয়া শুরু করে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলা দায়ের করাও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রস’তির অংশ। তাদের নির্বাচনী প্রস’তিতে এখন দেড় লক্ষ ইভিএম মেশিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল যে কাজটি তারা করছে তা হলো গণতন্ত্রের মাকে জেলে রেখে একদলীয় নির্বাচন করা।’
সভাপতির বক্তব্যে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দায়ের করে হয়রানি করছে যাতে খালেদা জিয়ার কারামুক্তি আন্দোলন ও আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রস’তি নিতে না পারে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক ও বেগম রোজী কবির, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য সামশুল আলম, নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ও চাকসু ভিপি নাজিম উদ্দিন, মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ও উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা প্রমুখ।