জাতিসংঘ কমিটির স্বীকৃতি অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ

১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশের। তারপর এই দেশের যাত্রাপথ মসৃণ যায়নি সবসময়। স্বাধীনতার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে হত্যা করা হয় রাষ্ট্রের স্থপতি, জাতির জনককে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দারিদ্যপীড়িত যে দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপহাস করা হয়েছিল সে দেশটি উন্নয়ন ইতিহাসে যুক্ত হলো এক মহান সম্মানে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে বের হওয়ার যোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে জাতিসংঘের বিবেচনার উন্নয়নশীল দেশেল পথে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি গত শুক্রবার বাংলাদেশের এই যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অভিহিত হবে বাংলাদেশ। প্রতি তিন বছর অন্তর সিডিপি এলডিসি দেশগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করে। বাংলাদেশ ২০২১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পর্যালোচনার যোগ্য হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ করবে ওই কমিটি, এর তিনবছর পর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাবে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। মাথাপিছু আয়ের বিবেচনায় এ শ্রেণিকরণ করে থাকে বিশ্বব্যাংক। জাতিসংঘ তার সদস্য দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত (এলডিসি), উন্নয়নশীল এবং উন্নত এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে এলডিসি অন্তর্ভুক্ত। মাথাপিছু আয় ছাড়াও মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা উত্তরণের বিবেচ্য বিষয়।
বাংলাদেশের জন্য এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গৌরবের তবে এই পথে কিছু কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে বাংলাদেশকে। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তার একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হলো এই অর্জন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশের শ্রেণি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হবে সমসাময়িক উন্নয়ন অভিজ্ঞতার একটি অনন্য সাফল্য। অনাকাঙ্ক্ষিত ধরনের বাধা না এলে ২০২৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে। এক্ষেত্রে এলডিসি পর্যায় থেকে যেসব দেশের উত্তরণ ঘটেছে এবং যেসব দেশ উত্তরণ পর্যায়ে আছে তাদের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়।
এই সম্মান অর্জনের সাথে সাথে বাংলাদেশকে নিশ্চিতভাবে কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করতে হবে। এলডিসি শ্রেণিভুক্ত থাকার কারণে বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে সুবিধা পাওয়া যেত তা কমে যাবে। এসব কিছুই বাংলাদেশকে নিজ যোগ্যতায় মোকাবেলা করতে হবে। ফলে সরকারের সাথে সাথে জনগণের দায়িত্বশীলতাও বৃদ্ধি করতে হবে। আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত হওয়ায় লক্ষে আমাদের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে যে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। মাঝখানে কোনোরূপ ব্যত্যয় আমাদের অর্জনের পথে বড় অন্তরায় হিসেবে দাঁড়াতে পারে।