জলবায়ু পরিবর্তন : ঝুঁকির তালিকায় এখনো বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো ষষ্ঠতম। জার্মানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জার্মান ওয়াচ ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০০ টি দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ১৯ বছর ধরে দুর্যোগের সংখ্যা, মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতির মোট হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি ‘বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে এই সংস্থা জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকাটি প্রকাশ করে থাকে। তারা ২০০৮ সাল থেকে এই তালিকা প্রকাশ করে আসছে। এতে এবারই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ৯ নভেম্বর। জার্মানির বনে জাতিসংঘের ২৩তম জলবায়ু সম্মেলনে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলো যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে চলতে পারে সে জন্য জাতিসংঘের অভিযোজন তহবিলকে প্যারিস চুক্তির আওতায় আনার আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জার্মান ওয়াচের ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশ ছিল। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কিছুটা এগিয়েছে। সর্বশেষ তিন বছরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ওই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে।
দেশের জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশে দুর্যোগ বেশি আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে চলতি এপ্রিলে হাওরে বন্যা, আগস্টে দেশের উত্তরাঞ্চলে শতাব্দীর ভয়াবহতম বন্যা, পাহাড়ধসের মতো বড় দুর্যোগের কবলে পড়েছে বাংলাদেশ। আর্থিক ক্ষতির দিক থেকেও চলতি বছর বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হাওর ও উত্তরাঞ্চলের বন্যার কারণে দেশে ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে ব্যাপক। সরকারি হিসাব মতে চলতি বছর প্রায় ১৫ লাখ টন ধান নষ্ট হয়েছে। বেসরকারি হিসাব মতে এই ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ। এরফলে গত কয়েক বছর চাল আমদানি করতে না হলেও সরকার গত কয়েকমাস আগে থেকে চাল আমদানির চেষ্টা করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ বাংলাদেশে দিনদিন প্রকট হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা দিনদিন যে ভালো বা উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছিল তা বাধাগ্রস্ত হবে দুর্যোগের কারণে। ফলে অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচির সাথে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আগাম প্রস্তুতি দরকার। নয়তো সকল উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।