সেমিনারে ড. আইনুন নিশাত

জলবায়ু পরিবর্তনে মাছের প্রজনন ও শস্যের ফলন কমবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-1

চীন, আমেরিকা, ভারত, কাতার, ব্রাজিলের মতো শিল্পে অগ্রসরমান দেশগুলোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইতিমধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এ কারণে প্রকৃতিতে খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়- এসব দুর্যোগ লেগে আছে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি ৩ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায় তাহলে মাছের প্রজনন থেকে শুরু করে শস্যের উৎপাদনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। আর যদি এরই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পেতে ৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায় তাহলে পৃথিবীতে মহাপ্রলয় ঘটে যাবে।
কথাগুলো বলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ও দেশের প্রখ্যাত জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘জলবায়ু পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধকারের বক্তব্য উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
ড. আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর তেমন কোনো দায় নেই। কিন্তু ভুক্তভোগী হিসেবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থান থাকে সবার ওপরের দিকে। আমরা কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করি মাত্র ০.৩ ভাগ, যেখানে এক কাতারই কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করে ৪০ ভাগ। ফলে পৃথিবীর উষ্ণতা আশংকাজনকভাবে দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সমুদ্রের পানি চলে আসছে আমাদের বসতবাড়ির আশেপাশে। এতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাটির উর্বরাশক্তি কমে যাচ্ছে এবং শস্যের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। একই কারণে হালদার মতো মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে রুই জাতীয় মাছের প্রজনন হার কমে যাচ্ছে।
ড. আইনুন নিশাত গ্রিন হাউস গ্যাস (মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, এইচএফসি) নিঃসরণ কমিয়ে পৃথিবীকে সমূহ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য রাজনৈতিক এবং কৌশলগত দুই উপায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে মত দেন। তিনি বলেন, সবসময় উচ্চকণ্ঠ হতে হবে যেন পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কোনো মতেই ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়। আমরা নিজেরা সচেষ্ট থাকব, যেন তা দেড় ডিগ্রির মধ্যে থাকে। সরকারের উচিত, প্রকল্প গ্রহণ করার সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টা যেন তাতে সবসময় অন্তর্ভুক্ত থাকে।
‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী সাদেক মোহাম্মদ চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, প্রকৌশলী উদয় শেখর দত্ত, প্রকৌশলী এম এ রশিদ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, দিন-দিন পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এদেশে ধানের উৎপাদন কমে অর্ধেক হয়ে যাবে। গমের উৎপাদন কমবে। আলুর উৎপাদন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন শস্য বলতে শুধু এক ভুট্টাই উৎপাদন হবে। তখন ভাত ছেড়ে মুরগির খাবার ভুট্টায় অভ্যস্ত হতে হবে।