বান্দরবান

জলকেলীতে মেতেছে পাহাড়ি পল্লিগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইকে ঘিরে জলকেলী উৎসবে মেতে উঠেছে তরুণ-তরুণীরা। এর পাশাপাশি বান্দরবানের পাহাড়ি পল্লিগুলোতে জলকেলীতে মেতেছে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের পাহাড়ি নারী-পুরুষেরা।
ঐতিহ্যবাহী এই জলকেলী উৎসবের আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে- খেলায় বিবাহিতরা অংশ নিতে পারে না। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ভাবের আদান প্রদান করে। এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা সম্পর্কের সেতুবন্ধন তৈরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। জলকেলী উৎসবে ছোট-বড় কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পানি খেলায় মেতে উঠে মারমা তরুণ-তরুণীরা। আশেপাশের শত শত পাহাড়ি নারী-পুরুষ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ভিড় জমিয়ে খেলা উপভোগ করে।
পুরাতন বর্ষকে বিদায় আর নতুন বর্ষকে বরণ করার এই উপলক্ষকে মারমা সম্প্রদায় তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। পানি খেলায় অংশ নেয়া মারমা তরুণী মিলি প্রু ও হ্লামেনু বলেন, সাংগ্রাই উৎসবের পানি খেলার মাধ্যমে আমরা পুরনো বছরের সকল দুঃখ-কষ্ট গ্লানি ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করি। এটি আমাদের সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব। এই উৎসবে পানি খেলা ছাড়াও পিঠা তৈরি, বুদ্ধমূর্তি স্নান, ক্যায়াং ক্যায়াং এ ছোয়াইং দান, হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বলন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠি আমরা।
গতকাল বিকেলে স’ানীয় রাজার মাঠে অংশ নেয়া তরুণ-তরুণীদের গায়ে পানি ঢেলে জলকেলী বা মৈত্রী পানি বর্ষণ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। অন্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপসি’ত ছিলেন।