যন্ত্রপাতি সংকট

জরাজীর্ণ কক্ষে অস্ত্রোপচার

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

সিফায়াত উল্লাহ

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস’া, যন্ত্রপাতি সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একমাত্র অস্ত্রোপচার কক্ষটি (অপারেশন থিয়েটার)। ফলে রোগীরা পর্যাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে সেবা দিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, অস্ত্রোপচারের টেবিলগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। টেবিলের লাইট নষ্ট। ফলে অস্ত্রোপচারের সময় সাধারণ লাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের কক্ষে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা নেই। তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে কার্যক্রম বন্ধ থাকছে। এতে সময়মতো অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হচ্ছে না রোগীদের। অনেক রোগী দিনের পর দিন হাসপাতালে বেডে শুয়ে অপেক্ষায় থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র জেনারেল হাসপাতালে দুপুর দু’টার পর কোনো রোগীর অস্ত্রোপচার হয় না। এজন্য ছোটখাটো জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের অন্য হাসপাতালে যেতে হয়।
হাসপাতালটি ঘুরে দেখা যায়, অনেকগুলো ওয়ার্ডের বেশিরভাগ শয্যা খালি। কিছু ওয়ার্ড তো একদমই জনমানবশূন্য। রোগীদের কিছুটা চাপ দেখা গেছে শিশু ও গাইনি ওয়ার্ডে। ওয়ার্ড দুটির সামনে রোগীর স্বজনদের দেখা মেলে।
স্ত্রী ভুবনা নাথকে নিয়ে চারদিনে ধরে হাসপাতালে আছেন বাঁশখালীর বাসিন্দা টিটু নাথ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার স্ত্রী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। টিটু নাথ বলেন, ‘এই হাসপাতালের পরিবেশ খোলামেলা। রোগীর চাপ নেই। খরচও কম। অস্ত্রোপচারের জন্য খরচ হয়েছে মাত্র দুই হাজার টাকা।’ সার্জারি ওয়ার্ডে কথা হয় এক রোগীর সঙ্গে। এ পর্যন্ত তিন বার তার অস্ত্রোপচারের তারিখ পেছানো হয়েছে। তবে তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি। সুপ্রভাতকে ওই রোগী বলেন, এখানে সেবা নেই। একাধিবার অস্ত্রোপচারের তারিখ নির্ধারণ করেছেন চিকিৎসকরা। কখন অস্ত্রোপচার হবে জানি না।
এর আগে হাসপাতালের একমাত্র অস্ত্রোপচার কক্ষটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার বা প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গতমাসে গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচার কক্ষটি সংস্কার করেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ওয়ার্ড রয়েছে ১৪টি। এরমধ্যে সার্জারি, ইএনটি ও অর্থোপেডিক্সের ওয়ার্ড ৬টি। এছাড়া রয়েছে গাইনি ও প্রসূতি, মেডিসিন, শিশু, চক্ষু, কিডনি ও হৃদরোগ ওয়ার্ড। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাসে গড়ে ২০ হাজার রোগী জেনারেল হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছেন।
অস্ত্রোপচার কক্ষে সংকটের ব্যাপারে জানতে চাইলে জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ সুপ্রভাতকে বলেন, অস্ত্রোপচার টেবিলের লাইট দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। তাই বিকল্প ব্যবস’া করা হয়েছে। অনেক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা নিজেদের টাকা দিয়ে মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি কেনেন। হাসপাতালের গরিব রোগীর ফান্ডের টাকা দিয়েও মাঝেমধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। এসব সংকট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরেও সমাধান হচ্ছে না।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ জন রোগীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। আরেকটি অস্ত্রোপচার কক্ষ থাকলে সেই সংখ্যা বাড়ানো যেতো। তাই নতুন একটি অস্ত্রোপচার কক্ষ খুবই প্রয়োজনীয়।
নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকায় ১৯০১ সালে এই হাসপাতাল গড়ে উঠে। তখন শুধু আউটডোরে সেবা পেতেন রোগীরা। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে ৮০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয় এই হাসপাতালে। এখনো সেই ভবনটি বিদ্যমান রয়েছে। ২০০৩ সালে এই হাসপাতালকে দেড়শ শয্যায় উন্নীত করে স্বাস’্য মন্ত্রণালয়। কিন’ জনবল না বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০১২ সালে এটিকে আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়।