জমে উঠেছে শারদীয় দুর্গাপূজার কেনাকাটা

রুমন ভট্টাচার্য
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত। ছবিটি নগরীর দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের অর্ণব থেকে তোলা - রনী দে
শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত। ছবিটি নগরীর দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের অর্ণব থেকে তোলা - রনী দে

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালি হিন্দু সমপ্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হবে পূজার ক্ষণগোনা। উৎসব ও পার্বণে নতুন জামা-কাপড় কেনার ধুম পড়ে। শারদীয় দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখন কেনাকাটায় ব্যস্ত।
চাহিদা অনুযায়ী পোশাক কিনতে নগরের মার্কেট, ফ্যাশন হাউসসহ অন্যান্য কাপড়ের দোকানে ভিড় বাড়ছে। সকাল-রাত পর্যন্ত চলছে কেনাকাটা। সকালের চেয়ে সন্ধ্যা থেকে বিক্রি ও ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি বলে জানালেন দোকানের সেলসম্যানরা। মার্কেটের পাশাপাশি ফুটপাতের কেনাকাটাও জমে উঠেছে। তবে ক্রেতারা বিভিন্ন স্থানে না ঘুরে এক ছাদের নিচে সবকিছু পাওয়া যাচ্ছে এমন দোকান ও মার্কেট বেছে নিচ্ছেন।
তরুণ-তরণী ও কিশোর-কিশোরীদের অনেকেই পছন্দের কাপড় কিনে আগেভাগেই দিয়েছেন সেলাই করতে। এখন বিবাহিত মহিলারা ভিড় জমাচ্ছেন শাড়ির দোকানে। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীদের হাল ফ্যাশনের চাহিদা মেটাতে দেশি কাপড়ের পাশাপাশি প্রায় সব মার্কেট ও কাপড়ের দোকানে রাখা হয়েছে পাকিস্তান, ভারত ও চায়নার কাপড়। সেখান থেকেই পছন্দের পোশাকটি সাধ্যমত সংগ্রহ করছেন ক্রেতারা।
গতকাল দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের অর্ণব, গুলজার মোড়ের গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, মতি কমপ্লেক্স, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, নিউ মার্কেট, টেরিবাজারের মনে রেখ, মাসুম ক্লথ স্টোর, জারা, মেগামার্ট, পরশমনি ও দর্পণে ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র। বিভিন্ন বয়সের ক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে সেখানে। তবে পুরুষের চেয়ে মহিলাদের ভিড় বেশি। হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের অর্ণবে।
হালিশহর থেকে দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের অর্ণবে স্বামীর সাথে আসা পুষ্পিতা দাশ নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘মা দুর্গাকে বরণ করতে লাল-সাদার সনাতনী সাজ অবশ্যই থাকা চাই। সে অনুযায়ীই আমি লাল পাড়ে সাদা জামদানি শাড়ি কিনতে এখানে এসেছি। এছাড়া একছাদের নিচে সবকিছুই এখানে পাওয়া যায়।’
ফ্যাশন হাউসগুলো যেমন-অঞ্জনস, শৈল্পিক, বাঙালি বাবু, জেন্টলম্যান, দেশাল, বিবিয়ানা, ক্রে-ক্রাফট ও দেশী-দশে লাল-সাদার সালোয়ার-কামিজসহ বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের পোশাক রয়েছে। এসব শোরুমে সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি শাড়ি, ফতুয়া ও বিভিন্ন রঙের ওড়না রয়েছে। ছেলেদের জন্য রয়েছে বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও ধূতি।
এছাড়া কাপড়ের জন্য বিখ্যাত নগরের টেরিবাজারের দোকানে বোম্বের লেহেঙ্গা, গুজরাটের পার্টি শাড়ি, দেশি ও ভারতীয় জামদানি শাড়ি, গরদ শাড়ি, জয়পুরের জারদোছি শাড়ি, দেশি-বিদেশি থ্রি-পিস, বাহারি রঙ ও নানা ডিজাইনের কাপড়ের বিপুল সমাহার রয়েছে।
সদরঘাট থেকে টেরিবাজার মনে রেখ শাড়ির দোকানে মা-বাবাকে নিয়ে আসা প্রিয়াংকা চৌধুরী নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘তিনটি জামা আগেই সেলাই করতে দিয়েছি। দশমীর জন্য লাল-সাদা গরদ শাড়ি নিতে এখানে এসেছি। কারণ এখানের কালেকশন ভাল। এছাড়া মায়ের জন্যও একটি শাড়ি কিনব। বাবার জন্য পাঞ্জাবি নিউমার্কেট থেকে কিনেছি।’
দু’নম্বর গেট থেকে সন্তানসহ আফমি প্লাজায় আসা রূপম দাশ নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘বাচ্চাদের কেনাকাটা শেষ। এবার নিজেদের জন্য কাপড় কিনতে এসেছি।’
টেরিবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, শেষদিকে এসে পূজার কেনাকাটা জমে উঠেছে। সকালে ভিড় একটু কম হলেও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা বাড়ছে। বিক্রিও মোটামুটি ভালো। হাতে আরো বেশকিছুদিন সময় আছে। আশা করছি বেচা-বিক্রি আরো জমে উঠবে। কারণ ক্রেতাদের চাহিদার সবকিছু রয়েছে এখানে।
মতি কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তমাল নন্দী বলেন, ‘দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে মার্কেট বন্ধ করা পর্যন্ত জমজমাট হয়ে উঠছে। বিক্রিও মোটামুটি ভালো। তবে দু’একদিন পর বিক্রি আরো বাড়বে বলে আশা করছি। ক্রেতাদের চাহিদা মাথায় রেখে মার্কেটে সব ধরনের নিত্য নতুন ডিজাইনের কাপড়ের বিপুল সমাহার রাখা রয়েছে।’