জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে হাঁস-মুরগি খামারের বর্জ্য

দেশে হাঁস-মুরগির খামার বা পোলট্রি শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটছে। দ্রুত প্রসার হচ্ছে এই শিল্পের। বছরে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ঘটছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে বিকাশ লাভ করেছে পোলট্রি শিল্পের। দেশীয় মুরগির সরবরাহ কম থাকয় এবং দাম পোলট্রি মুরগির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দেশে পোলট্রি মুরগির চাহিদা ও জনপ্রিয়তাও বেড়েছে প্রচুর।
কেউ বাড়ির ছাদে, কেউবা বাড়ির পাশে গড়ে তুলছে ছোট ছোট পোলট্রি ফার্ম। এ ছড়া বৃহৎ পরিসরেও গড়ে উঠেছে অনেক খামার। এই খামারগুলো মুরগির চাহিদা পূরণে ভূমিকা পালন করলেও পরিবেশের জন্য তা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। খামারের বর্জ্যের গন্ধে আশেপাশে এলাকার মানুষের ভীষণ দুরাবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। পোলট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের নীতিমালা বা আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় এই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খামারের পাশে উন্মুক্ত স্থানে, নদীতে, জলাশয়ে, রাস্তার পাশে। এতে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। এই বর্জ্য আমাদের খাদ্যে মিশে রোগ-জীবাণু ছড়াচ্ছে।
গত মাসে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত নবম ওয়ার্ল্ড হেলথ বাংলাদেশ সম্মেলনে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্যাথলজি বিভাগের গবেষকরা ময়মনসিংহের পঁচটি কৃষি খামারের করলা, গাজর, বেগুন, লাউ, শসা, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, মরিচ ও ঝিঙায় সালমোনেল্লা ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করেছেন। খামারগুলোতে সার হিসেবে পোলট্রি খামারের অপরিশোধিত বর্জ্য ব্যবহার করা হয়।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সালমোনেল্লার কারণে টাইফয়েড ও ই-কোলাইয়ের কারণে ডায়রিয়া হয়। অপরিশোধিত পোলট্রি বর্জ্য খেত-খামারে সার হিসেবে বা মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। এ জন্য কাঁচা শাক-সবজি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।
গবেষকরা বলেছেন, মালিকদের ৬৯ শতাংশের হাঁস-মুরগি পালনের ওপর কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তারা পোলট্রি বর্জ্যের ক্ষতিকর বিষয়ে সচেতন নন। ৩১ শতাংশ মালিক পুকুরে বর্জ্য ফেলেন। ১৬ শতাংশ সরাসরি কৃষি জমিতে ফেলেন। মাত্র ৩ শতাংশ মালিক বায়োগ্যাস তৈরি করেন। ৮১ শতাংশ মালিক ফেলার আগে বর্জ্য সংশোধনই করেন না।
বাংলাদেশ ফসল উৎপাদনে বেশ সাফল্য দেখালেও এই উৎপাদন স্বাস্থ্যবান্ধব করা সর্বক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। জনগণ তথা উৎপাদকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হওয়া এবং সরকারি পর্যায়ে নজরদারি না থাকার কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।
সরকারের উচিত অচিরেই পোলট্রি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করা। সে সাথে পোলট্রি মালিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা।