জনসংহতি’র দিকে তাকিয়ে বিএনপির রাঙামাটির ২ প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দল কিংবা দলীয় চেয়ারপারসন নয়, বরং আঞ্চলিক একটি দলের সহানুভূতি পাওয়ার আশায় তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল-বিএনপি’র রাঙামাটির একমাত্র আসনটির সম্ভাব্য দুই প্রার্থী। দলের প্রাথমিক মনোনয়নে সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান ও সাবেক যুগ্ম জেলা জজ দীপেন দেওয়ান এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান দলীয় মনোনয়ন পেলেও সজ্জন হিসেবে পরিচিত মনীষ ‘অভিমানে’ শেষাবধি মনোনয়ন জমা দেননি। ফলে ধানের শীষের প্রতীক পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন এখন মনিস্বপন ও দীপেনই। যদিও বিএনপির আরো ৬ নেতাও মনোনয়ন নিয়েছেন।
বিএনপির হতাশা ও পরাজয়ের ইতিহাস
রাঙামাটির রাজনীতিতে বিএনপির নির্বাচনের ইতিহাস কিংবা স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। নির্বাচনে অংশ নিলাম, হেরে গেলাম এবং ঘরে ফিরে গেলাম, এর চেয়ে বড় কিছু যেন নেই দলটির। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে নাজিমউদ্দিন আহমেদ, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পারিজাত কুসুম চাকমা গোহারা হেরেছেন দীপংকরের কাছে। বারবার পরাজিত বিএনপির শুধুমাত্র একটিই সুখস্মৃতি। সেটি হলো, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন সাবেক পৌরসভা ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নির্বাচনের কদিন আগেই বিএনপিতে যোগ দেয়া মনিস্বপন দেওয়ান। ৯১ থেকে টানা বিজয়ী দীপংকরের জয়রথ থামান ঝানু এই রাজনীতিবিদ। তাঁর হাত ধরেই বিজয়ের বরমাল্য পরে দলটি এবং নির্বাচিত হওয়ার পুরস্কার হিসেবেই পান পার্বত্য উপমন্ত্রীর দায়িত্ব। এখন দুই দেওয়ানে বিভক্ত রাঙামাটি বিএনপি। রাঙামাটি জেলা এবং দশ উপজেলা বিএনপির মূল নেতৃত্ব মনিস্বপন দেওয়ানের পড়্গেই স্পষ্টত অবস’ান নিয়েছে। জেলা বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদক-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ মূল নেতৃত্ব চাইছেন মনিস্বপনকেই। তাদের বিশ্বাস, একমাত্র মনিস্বপনই পারবেন এই আসনটিকে ধানের শীষকে উপহার দিতে।
অন্যদিকে দীপেন দেওয়ানের অনুসারীদের বক্তব্য, দীপেন দেওয়ানকে মনোনয়ন দিলেই বিজয়ী হবে দলটি।
জনসংহতির দিকেই তাকিয়ে দুই প্রার্থী
রাঙামাটিতে বিজয়ী হওয়ার জন্য যে ভোট প্রয়োজন, তা নেই বিএনপির। এটা তারা মানেন, বিশ্বাস করেন এবং পরিকল্পনায়ও রাখতে চায় দলটি। অদ্ভুত যুক্তিতে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিশ্বাস, আঞ্চলিক প্রভাবশালী দল জনসংহতির সমর্থন ছাড়া বিজয়ী হওয়া কঠিন তাদের। এক সময় পুনর্বাসিত বাঙালিরা ভোটব্যাংক ছিল ধানের শীষের। বিপরীতে নৌকার প্রতি ছিল তাদের বিদ্বেষ। কিন’ সময়ের পরিক্রমায় ধানের শীষের বদলে নৌকাতেই এখন সবচে বেশি ভরসা পুনর্বাসিত বাঙালিদের। পাহাড়িদের মধ্যেও বিএনপির কোনো ভোট নেই, যা আছে তা সংসদ নির্বাচন তো দূরের কথা কোনো ইউনিয়ন পরিষদে জেতার জন্যও যথেষ্ট নয়। ফলে ভোটব্যাংকশূন্য বিএনপির তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে রাঙামাটির প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল জনসংহতি সমিতির দিকেই। জনশ্রম্নতি আছে, মনিস্বপন দেওয়ান ২০০১ সালের নির্বাচনে অপ্রকাশ্যে জনসংহতি সমিতির সমর্থন পেয়েছিলেন বলেই নির্বাচিত হয়েছিলেন।
দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান, জিয়াউর রহমানের আমলে তাঁর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। সেই সময় পাহাড়ে বাঙালি পুনর্বাসন হওয়ার ব্যাপরটা নিয়ে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ তিনি। তারপরও দীপেন দেওয়ান ২০০৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে আসার পর থেকে জনসংহতি সমিতি ও সন’ লারমার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। শুধুমাত্র তাদের সমর্থনে সংসদ সদস্য হওয়ার আকাঙড়্গায়। যদিও এই ঘনিষ্ঠতা ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রী সংসদ সদস্য প্রার্থী হলেও তার ভোটে কোনো প্রভাব ফেলেনি। বরং জনসংহতি সমিতিও নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছিল।
আদৌ কি মিলবে সমর্থন ?
২০১৪ সালের নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের ভূমিধস বিজয়ের মধ্যেই পার্বত্য রাঙামাটিতে পরাজিত হয়েছিলেন দীপংকর তালুকদার। জনসংহতি সমিতির নেতা ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ ঊষাতনের কাছে তার পরাজয়ে বিস্মিত হয় দলটির নেতাকর্মীরা। নৌকার প্রার্থী দীপংকরের ইস্যুতে কট্টর বিরোধী জনসংহতি তাকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে বিএনপিকে সমর্থন দেয়াটাও বিচিত্র কিছু নয়।
যা বলছেন দুই নেতা
মনোনয়ন ও জনসংহতির সমর্থন প্রসঙ্গে মনিস্বপন দেওয়ান বলেছেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমার বিশ্বাস শেষাবধি আমিই হবো এখানে ধানের শীষের প্রার্থী।
অন্যদিকে বরাবরের মতোই স্পর্শকাতর ইস্যুতে নির্বাক থাকা দীপেন কথা বলতে চাননি। তার পড়্গে তার অনসারী সাইফুল ইসলাম ভূট্টো বলেছেন, দীপেন দেওয়ানই বিএনপির প্রথম পছন্দ এবং তিনিই মনোনয়ন পাবেন।