পাটকল শ্রমিকদের সড়ক ও রেলপথ অবরোধ

জনদুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৯ দফা দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টিসহ দেশের ২২টি পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে নগরের আমিন জুট মিলের শ্রমিকেরা কারখানা সংলগ্ন সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছে। গতকাল সকাল আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যনত্ম তাদের এ কর্মসূচি চলে। শ্রমিকেরা টায়ার, কাঠ জ্বালিয়ে সড়কে প্রায় চারঘণ্টা অবস’ান নেয়। এ সময় দুর্ভোগে পড়ে মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন রম্নটের যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা।
সকাল নয়টার দিকে অক্সিজেন থেকে তার স্কুলগামী সনত্মানকে নিয়ে মুরাদপুর যাচ্ছিলেন বেসরকারি সংস’ার কর্মচারী ইকবাল হাসান। তাকে বহনকারী অটোরিকশাটি আমিন জুট মিল গেটের সামনে এলে উত্তেজিত কিছু শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে অটোরিকশাটির দিকে তেড়ে যায়। এ সময় একজন শ্রমিক চালক থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে ফেলে। কেউ কেউ অটোরিকশাটি ভাঙচুরে উদ্যত হয়। অবশেষে পায়ে হেঁটে সনত্মানদের নিয়ে স্কুলের দিকে রওনা দেন ইকবাল। এক প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল বলেন, ‘শ্রমিকেরা গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করলে অদূরে দাঁড়িয়েছিল অসংখ্য পুলিশ। কিন’ তারা উত্তেজিত শ্রমিকদের নিবৃত্ত করতে এগিয়ে আসেনি।’
মুরাদপুর-হাটহাজারী সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সকাল ১০টার দিকে আমিন জুট মিল গেটের সামনে আটকা পড়েন স্কুলশিড়্গক নেয়ামত আলী। তিনি বলেন, ‘রাসত্মার ওপর গাছের গুঁড়ি এলোপাতাড়িভাবে ফেলে রাখায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তার কর্মস’ল
হাটহাজারী উপজেলায়। সময় মতো যেতে না পারলে সমস্যা হবে। কিন’ দুঘণ্টা ধরে আটকে ছিলেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পাটকল শ্রমিকদের অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম থেকে ঠিক সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি মেঘনা, পাহাড়িকা ও সোনারবাংলা ট্রেন। ষোলশহর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ৯টার ট্রেনটি আমিন জুট মিল গেটে আটকে দেয় অবরোধকারীরা। এর আগে সকাল ৮টার দিকে শহরগামী নাজিরহাট থেকে আসা রেলও আটকে দেয়া হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যবস’াপক বোরহান উদ্দিন জানান, সীতাকু- এলাকায় কিছু সময়ের জন্য ট্রেন আটকে রাখে পাটকল শ্রমিকেরা। তবে দুপুর ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। সীতাকু- থানা পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সকাল আটটার দিকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস’ান নেয়। এ সময় বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতারা।
এদিকে বায়েজিদ থানার ওসি মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যনত্ম সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে পাটকল শ্রমিকেরা। পরিসি’তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আমিন জুটমিল এলাকায় মোতায়েন রাখা হয়। তবে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ যৌথভাবে এ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যনত্ম চার ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ চলবে। আগামী ২৬ এপ্রিল শ্রমিক সমাবেশ, ২৭, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যনত্ম চার ঘণ্টা করে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়েছে।
আমিন জুটমিল শ্রমিক নেতা আবদুর রহিম জানান, তাদের ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ বাসত্মবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ-গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বিমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাসত্ম শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স’ায়ীকরণ, মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা, উৎপাদন বাড়ানোর লড়্গে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা প্রভৃতি।
এর আগে গত ১ এপ্রিল থেকে একই দাবিতে সারাদেশে পাটকল শ্রমিক লীগ, সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদ লালপতাকা মিছিল ও বিড়্গোভ, ৭২ ঘণ্টা ধর্মঘট, রাজপথ- রেলপথ অবরোধসহ চারদিনের কর্মসূচি পালন করে।