জনগণ বিএনপিকে আর ক্ষমতায় আনবে না

বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
17-12-17-PM_AL-Addressing-3

যারা স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজ, মানুষ পুড়িয়ে মারে এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়; তাদের জনগণ কখনও ভোট দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এরা কোনোদিন ক্ষমতায়ও আসতে পারবে না। যারা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি চান, যারা দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নতি চান; তারা কখনোই দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় আনবে না।
বিজয় দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন।
দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির তুলনা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা ত্যাগ স্বীকার করেন, তাদের যে দরদ থাকে, তাদের যে আন্তরিকতা থাকে, সেটা কিন’ ওই উড়ে এসে ক্ষমতায় জুড়ে বসা আর ক্ষমতা দখলকারীদের থাকে না। তারা ভোগ বিলাসে জীবন কাটায়। তারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে।’
বিদেশে অর্থপাচারের দায়ে বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া দণ্ডের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘কোন মুখে তারা জনগণের কাছে গিয়ে দাঁড়াবে। কোন মুখে জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইবে।’
সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ কেন এগিয়ে যাচ্ছে? কারণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। আর এই আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন দেশের উন্নয়ন হয়।’
এ সময় তিনি জনগণের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘যারা এই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি চান, যারা এই দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নতি চান, উন্নতি যারা চান; তারা কি কখনও ওই যুদ্ধাপরাধীদের লালন-পালন করা বা তাদেরকে মন্ত্রী বানানো বা যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, তাদের সমর্থন করতে পারে? না ভোট দিতে পারে? তাদের ভোট দিতে পারে না। তাদেরকে সমর্থন করতেও পারে না।’
বঙ্গবন্ধুকে প্রায় সপরিবারে হত্যা এবং যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়। যারা পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরকেও ফেরত আনা হয়। কী দুর্ভাগ্য এ দেশের! যারা যুদ্ধ করলো, যারা রক্ত দিলো, তারাই অপরাধী হয়ে গেলো! আর যারা হানাদার পাকিস্তানিদের দালালি করলো, যারা গণহত্যা চালালো, যারা মা-বোনদের ধর্ষণ করলো, তাদেরই ক্ষমতায় বসানো হলো।’
আর ওদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল কে- এ প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেও একজন মুক্তিযোদ্ধা, তাকে বড় খেতাবও দেওয়া হল। ছিল একটা মেজর। জাতির পিতাই তাকে প্রমোশন দিয়ে দিয়ে বানালো মেজর জেনারেল। সেই বেঈমান, মোনাফেক জিয়াউর রহমান; সে-ই এদেরকে (যুদ্ধাপরাধী) প্রতিষ্ঠিত করলো বাংলার মাটিতে।’
এরপর তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একাই না। জিয়া, এরশাদ সবাই মিলে এদের (স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী) খোশামোদি করেছে। তারপর খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে আরও একধাপ ওপরে উঠলো। এদেরকে নিয়ে তার দহরম-মহরম। এদের হাতে তুলে দিল লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা।’
যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়াদের উত্তরসূরীদের নিয়ে দল গঠন করায় বিএনপির সমালোচনাও করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে এলাম, তখন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে খালেদা জিয়া। মসজিদে আগুন দেওয়া, কোরআর শরীফ পুড়িয়ে ফেলা, গাছ-রাস্তা কেটে ফেলা; কি না করেছে একটা দেশকে ধ্বংসের জন্য। আমরা গড়ে তুলি, ওরা ধ্বংস করে। এইভাবে তারা এদেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা তারা করেছে।
তিনি বলেন, ‘এই আগুন লাগাচ্ছে কারা? ওই বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডারেরা। হুকুমদাতা কে? হুকুম দিচ্ছে খালেদা জিয়া। পরামর্শ কে দিচ্ছে? উনার এক কুলাঙ্গার ছেলে যে অর্থপাচারে সাজাপ্রাপ্ত, দুর্নীতি গ্রেনেড হামলাসহ যত অপকর্মের সাথে জড়িত।’
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘এক সময় ভাঙা স্যুটকেস থেকে জাহাজ বেরিয়েছে, এখন দেখি শপিং মল বের হচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা বের হচ্ছে। তারা আবার স্বপ্ন দেখে ক্ষমতায় যাওয়ার। তারা আবার স্বপ্ন দেখে রাজনীতি করবার।’ দেশবাসীকে সতর্ক করার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা রাখলে উন্নতির আশ্বাসও দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে শাহিন রেজা নুর প্রমুখ।