জঙ্গি সন্দেহে আটক সাত যুবক রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক সাত যুবককে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মহানগর হাকিম আল-ইমরানের আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ডে পাঠায়। এর আগে গত রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন মো. মহিউদ্দিন তামিম (২৯), চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের মানব সম্পদ ব্যবস’াপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফজার হোসেন (২১), মো. ইমরান খান (২৭), প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক ছাত্র দাউদ নবী পলাশ (২৮), চৌধুরী মোহাম্মদ রিদওয়ান (২৭), আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এসএম জাওয়াদ জাফর (২৬) ও ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্র ও কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের ফিল্ড অফিসার মুনতাসিরুল মেহের (২৬)।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী সুপ্রভাতকে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেফতার আসামিদের প্রত্যেককে রিমান্ডে নিতে সাত দিনের আবেদন জানায়। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা যায়, ২০১৩ সালে নগরীর আসকার দীঘির পশ্চিম পাড়ে আতরজান জামে মসজিদে ইবনে মোস্তাকের সঙ্গে ৭ যুবকের পরিচয় হয়। পরে মোস্তাকের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় উৎসাহী হয়ে উঠে তারা।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর সমর্থক। হোয়াটস অ্যাপে তারা ‘ডিন ফোর্স এক্সট্রিম’ ও ‘ইখোয়ান’ নামক দুটি গ্রুপে সক্রিয় থেকে জিহাদি ভিডিও ও ছবি প্রচার করে নিজেদের কথিত জিহাদের জন্য প্রস’ত করছিলেন।
আরও জানা যায়, জঙ্গি মতাদর্শের কয়েকজন সদস্য নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানার হাফেজ মোহাম্মদ সাদেক ওয়াকফ স্ট্যান্ড জামে মসজিদে গোপনে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে এমন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালায় র্যাব।
গত শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানা এলাকার পুরাতন বিমান অফিসের পাশে আনন্দবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই সাতজনকে আটক করেন র্যাব-৭। এসময় তাদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে উস্কানিমূলক জিহাদি বই ও জঙ্গি কাজে ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।