জঙ্গি সন্তানের মরদেহ নিতে রাজি নন বাবা

সুপ্রভাত ডেস্ক

জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে র্যাবের অভিযানে নিহত হওয়া চট্টগ্রামের স্কুলছাত্র নাসিফ উল ইসলামের (১৬) মরদেহ গ্রহণ করেনি তার বাবা। ঢাকায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করলেও সেটি গ্রহণ না করেই চট্টগ্রামে ফিরেছেন তিনি। দাফনের জন্য পাঠানো হলেও সেটি নাসিফের বাবা গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে ছেলেকে যারা বিপথে নিয়ে জঙ্গি বানিয়েছে তাদের শাস্তি চেয়েছেন নাসিফের বাবা। খবর বিডিনিউজ।
নাসিফ নগরীর কাজেম আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। গত বছরের ৬ অক্টোবর স্কুলে গিয়ে নিখোঁজ হয় নাসিফ। জানতে চাইলে নাসিফের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, নাসিফ যখন হারিয়ে গিয়েছিল তখন সে আমার সন্তান ছিল। এখন তার যে লাশ সেটি জঙ্গির লাশ। এ লাশ আমি গ্রহণ করবো না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় গত ১২ জানুয়ারি একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব। অভিযানে তিনজন নিহত হয়। এর মধ্যে মেজবাহ নামে একজনের পরিচয় শুরুতেই পাওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ১৮ জানুয়ারি বাকি দুজনের ছবি প্রকাশ করে র্যাব। সেই ছবি দেখে চট্টগ্রামের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরির্দশক আফতাব হোসাইন নাসিফের বিষয়ে নিশ্চিত হন। ওই রাতেই নগরীর চকাবাজরে নাসিফের বাসায় গিয়ে তার বাবা-মাকে ছবি দেখান পরিদর্শক আফতাব হোসেন। তারাও তাদের ছেলেকে শনাক্ত করেন। ১৯ জানুয়ারি র্যাবের একটি টিম নজরুল ইসলামকে নিয়ে ঢাকায় যান। তিনি সরাসরি নাসিফের মরদেহ শনাক্ত করেন। শনিবার তিনি চট্টগ্রামে ফিরে আসেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তানকে যারা বিপথে নিয়ে গেছে তাদের শাস্তি দাবি করছি। সরকার যেন তাদের বিচার নিশ্চিত করে। ‘সবার কাছে মিনতি, তারা যেন তাদের সন্তানদের দিকে নজর রাখে। আমার মতো কেউ যেন সন্তান না হারায়। কোন বাবা-মাকে যেন সবার সামনে আমাদের মতো লজ্জিত হতে না হয়। ’ বলেন নজরুল।
নাসিফদের বাড়ি চন্দনাইশ উপজেলার পশ্চিম কানাইমাদারী গ্রামে। থাকতেন চকবাজার থানার চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব গেইট এলাকায়। নাসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর নজরুল ইসলাম নগরীর চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কিশোর নাসিফকে খুঁজতে গিয়ে গত ১ জানুয়ারি নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায় নব্য জেএমবির একটি আস্তানার সন্ধান পায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। সেখান থেকে বিস্ফোরকসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর দুই আত্মঘাতী জঙ্গির বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের সদরঘাট থানায় হামলার পরিকল্পনা ছিল। ওই
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একজন নারী হওয়ায় তারা সেখানে হামলার পরিকল্পনা নেয়।
আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বাদি হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান একই ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসাইন।