দুই বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারক একজন

জঙ্গি-নাশকতা এবং খুনের মতো প্রায় ২ শত চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে দুই ট্রাইব্যুনালে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দুটি আলাদা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স’াপন করা হয়। কিন’ বর্তমানে দুই ট্রাইব্যুনাল মিলে বিচারক রয়েছেন মাত্র একজন। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বিচারক নেই চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে। সম্প্রতি স’াপিত সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিমকে দিয়েই চলছে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ। ফলে চাঞ্চল্যকর খুনের মামলা থেকে শুরু করে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট এবং বিষ্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারকাজ দ্রুত নিস্পত্তিতে ব্যাঘাত ঘটছে। দুই আদালতে একসাথে বিচারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিচারককে। দুর্ভোগে পড়ছেন বিচারপ্রার্থীরা।
আদালতসূত্রে জানা যায়- ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীকে সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে বদলি করা হয়। এরপর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রাইব্যুনাল বিচারকশূন্য অবস’ায় পড়ে রয়েছে। অথচ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য এটিই একমাত্র দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
আদালতসূত্রে আরও জানা যায়- প্রায় দেড় বছর ধরে বিচারকশূন্য থাকার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হোসনে আরা বেগম নামের একজনকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। কিন’ কাজে যোগ না দিয়ে তিনি অন্য জায়গায় বদলি হয়ে চলে যান। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই আইন মন্ত্রণালয় সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিমকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব দেয়। গত জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুই ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ পরিচালনা করে আসছেন আব্দুল হালিম।
এছাড়াও নতুন স’াপিত সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে প্রায় ৬৪টি। প্রায় সব-কটি মামলায় জঙ্গি-নাশকতা সংশ্লিষ্ট। এছাড়াও বিষ্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলাগুলোও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রাইব্যুনালে।
আদালতের প্রশাসনিক কাজে দায়িত্বশীল একাধিক ব্যক্তি ও কয়েকজন আইনজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে- একসাথে দুটি আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে বিধায় বিচারকাজে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিজ্ঞ বিচারক আবুল হালিমকে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরাও। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আয়ুব খান এই ট্রাইবুনালে একজন স’ায়ী বিচারক দরকার বলে জানান।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌসুলী আয়ুব খান সুপ্রভাতকে বলেন- চট্টগ্রাম বিভাগের আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য সরকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। দুই আদালতে
প্রায় দুইশত মামলা বিচারাধীন। এ অবস’ায় ভারপ্রাপ্ত বিচারকে আদালত পরিচালনা দুঃখজনক। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দ্রুত স’ায়ী বিচারক নিয়োগ করতে সরকারের প্রতি অনুরোধও জানান পিপি আয়ুব খান।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পেশকার আবু সাঈদ বলেন- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ১০০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যেখানে প্রায় সব-কটি মামলাই চাঞ্চল্যকর। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বিএনপির নেতা জামাল উদ্দিন চৌধুরী হত্যা মামলাসহ চাঞ্চল্যকর ৩০টি খুনের মামলা। এ ছাড়া নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ১৫টি মামলাও রয়েছে এই ট্রাইব্যুনালে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন- দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এবং সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলা রয়েছে তা খুবই স্পর্শকাতর। এর মধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স’ায়ী বিচারক নেই। যা দুঃখজনক। গত জুন মাসে আইন মন্ত্রণালয় বরাবর বিচারক নিয়োগ দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন- আশা করি সরকার দ্রুত বিচারকশূন্য আদালতগুলোতে বিচারক নিয়োগ দিবেন।