‘জঙ্গিবাদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক শিক্ষক সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী

জঙ্গিদের লক্ষ্য এখন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ-সুপ্রভাত
শিক্ষক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ-সুপ্রভাত

‘জঙ্গিবাদ ইস্যু নিয়ে শিক্ষকদের সাথে এই ধরনের সমাবেশ করতে হবে, তা আগে ভাবিনি। এখন এ সমাবেশ করতে হচ্ছে।’ ‘জঙ্গিবাদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক শিক্ষক সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা বলেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘ছেলেদের সাথে এখন মেয়েরাও জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে। যারা তাদের এ ধরনের কাজে মোটিভেট করছে, তারা নিজেরা নিরাপদে থেকে আমাদের বাচ্চাদের সেখানে প্রবেশ করাচ্ছে।’
গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজে চট্টগ্রাম বিভাগের সব স্কুল, কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে এক শিক্ষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জঙ্গিবাদমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে সচেতনতা তৈরি করতে সারাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে সরকার শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এ শিক্ষক সমাবেশ ছিল নবম তম। চট্টগ্রামের তিন পার্বত্যাঞ্চল, কক্সবাজার ও সব উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ গতকালের এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে জঙ্গিদের সংখ্যা কম। কিন’ তাদের কার্যক্রম থেমে নেই। যেসব জঙ্গি ধরা পড়েছে, তারা ধরা পড়ার পর বলেছে, জঙ্গি হামলা করার প্রস’তি চলছে।’ শিক্ষার্থীরা এখন জঙ্গিদের লক্ষ্য মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বড় বড় স’ানে ধনীরা খুব সহজেই প্রবেশ করতে পারে, তাই জঙ্গিরা এখন সেসব পরিবারের সন্তান ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। এর একটি নমুনা হলি আর্টিজানে হামলা। সেখানে যে জঙ্গিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা সবাই তেমনই ছিলো। জঙ্গিরা তাদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করে ব্যবহার করেছে।’ এর জন্য সমন্বিত সচেতনতা তৈরির তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের নিয়ে সমাবেশ করতে হবে। সেখানে এসব বিষয়ে বোঝানো হবে।’
শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষকদেরকে আন্তরিক হওয়ার প্রতি জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মাঠ ছাড়াও যেসব খেলা আছে, শিক্ষার্থীদের সেসব খেলার সুযোগ বাড়াতে হবে। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, প্রতিযোগিতা, এক্সট্রা কারিকুলাম বাড়াতে হবে। তারা যে বিষয়ে দুর্বল, সেটা তাদের বোঝাতে হবে। নানা কাজে যুক্ত করে দিন, এতে তাদের সৃজনশীলতা বাড়বে। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে চিনতে হবে। এতে তাদের সাথে সম্পর্ক ভালো হবে। তারাও নির্ভয়ে যেকোনো কথা এসে জানাবে। এমনকি, কেউ যদি বলে, বোমা মারলে বেহেশতে যাওয়া যাবে, সেটাও আপনাদের জানিয়ে দেবে।’ এ সময় তিনি মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাদানেই সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক ও উন্নত শিক্ষাদানে সম্পৃক্ত হওয়ারও সুপারিশ করেন।
এর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘শিক্ষার্থীদেরকে জঙ্গি কার্যক্রমে জড়াতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদেরকে জঙ্গি করতে, মোটিভেট করতে পয়সা আসছে। শিক্ষার্থীরা এখন জঙ্গিদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।’ জঙ্গি আক্রমণে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজানে হামলায় দেশের মেট্রোরেল প্রকল্পের ছয় জন উপদেষ্টা নিহত হয়েছেন। এই ছয় জনের মৃত্যুতে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বে অনেক পিছিয়ে গেছে।’
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়-য়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রফেসর সাহেদা ইসলাম। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর এস.এম. ওয়াহিদুজ্জামান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহবুবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমিন, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) দেবদাস ভট্টাচার্য্য।
সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসান। সমাবেশে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা বক্তব্য দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন