ছেলেকে আনতে বিমানবন্দরে যাওয়া হলো না মা-বাবার

রাজু কুমার দে, মিরসরাই

অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা। ছেলে বিদেশ থেকে দেশে আসবে। পিতা-মাতার সঙ্গে আনন্দে বাড়িতে আসবে। কিন’ কে জানতো বৃদ্ধ পিতা মাতার শেষ আশাটুকু পূরণ হবে না। দীর্ঘদিন না দেখা ছেলের মুখ দেখার আগেই না ফেরার দেশে চলে যাবেন। নিয়তির নির্মম পরিহাস। ছেলে আসলো দেশে কিন’ পিতা-মাতা চলে গেলেন পরপারে। মঙ্গলবার সকালে এমনি এক মর্মানিত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে মিরসরাইয়ের নিজামপুর হাদিফকিরহাট এলাকায়। চলনত্ম মাইক্রো বাসে ঘাতক কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় আগুন লেগে পিতা-মাসহ নিহত হন তিনজন।
নিহত আব্দুর রহমানের ছেলে মো. রম্নবেল জানায়, ওমানে থাকা তাঁর বড় ভাই স্বপনকে আনতে বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন বাবা আব্দুর রহমান ও মা বিবি কুলসুমসহ ভাই-ভাতিজারা। কিন’ মিরসরাইয়ের নিজামপুরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আমার বাবা ও মাকে হারালাম। বড় ভাইকে নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না বাবা-মায়ের।
প্রত্যড়্গদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামগামী একটি মাইক্রোবাস কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এসময় মাইক্রোবাসটি কাভার্ডভ্যানের পেছনে আটকে যায়। কিন’ কাভার্ড্যভানটি চলতে থাকে। অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে কাভার্ডভ্যানটি দাঁড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে পুরো মাইক্রো বাসে। এতে আগুনে পুড়ে কঙ্কাল হয়ে যায় এক দম্পতিসহ তিনজন।
প্রতড়্গ্যদর্শী নুরম্নল আবছার জানান, হঠাৎ মাইক্রোবাসে আগুন দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স’ানীয়রা গ্যাস সিলিন্ডারের কারণে গাড়ির কাছে ভিড়তে ভয় পেয়েছিল। তবুও অনেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিল বলে তিনি জানান।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রবিউল আজম রবিন জানান, মঙ্গলবার সকালে তারা যখন ঘটনাস’লে পৌঁছান তখন মাইক্রোবাসে আগুন জ্বলছিল। পরে ফায়ার সাভির্সের কর্মীদের নিরলস চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।